দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের আর ফিরে আসার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন। তিনি বলেন, “ভূরাজনীতি, সন্ত্রাসে জড়িত কার্যক্রম এবং জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে যেভাবে মুসলিম লীগের রাজনীতি ১৯৫৪ সালে বিলুপ্ত হয়েছিল, ঠিক তেমনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিও বিলুপ্ত হয়ে যাবে।”

আজ সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আওয়ামী লীগের সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং দ্রুত নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে তৃণমূল নাগরিক আন্দোলন আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে অনুষ্ঠিত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, “২০১৮ সালের রাতের ভোটসহ সকল অবৈধ নির্বাচনে যারা সহযোগিতা করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। নির্বাচন কমিশনের সাবেক প্রধান নুরুল হুদা ও হাবিবুল আউয়ালসহ যারা এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন, তাদের সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ভারতের প্রভাব ধরে রাখতে ওয়ান-ইলেভেনের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসানো হয়। এখন সময় এসেছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের। এমন একটি নির্বাচনী সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সংসদ সদস্যরা নিজেকে ‘সম্রাট’ ভাববেন না। সরকারের সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।”

সমাবেশে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেন, “দেশের মানুষ ১৬ বছর ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের বৈঠক নিয়ে কিছু রাজনৈতিক দল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।”

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “নির্বাচন বিলম্বিত করতে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করতে যারা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে সুযোগ করে দিচ্ছে, তাদেরকে সেই ষড়যন্ত্রের দায় নিতে হবে।”

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বুলু, রহিমা শিকদার, মৎস্যজীবী দলের নেতা ইসমাইল হোসেন সিরাজি ও সাবেক ছাত্রনেতা মাহমুদুল হোসাইন খান রাকিব প্রমুখ।
সভাপতিত্ব করেন তৃণমূল নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি মফিজুর রহমান লিটন।