জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যম এখনো পূর্বের মতোই নিয়ন্ত্রণে চলছে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমন ও গুমের পেছনে সেনা গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দ্বিতীয় দিনের জবানবন্দি দেওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
গণমাধ্যম নিয়ে প্রশ্নে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আন্দোলনের সময় কিছু গণমাধ্যম আমাদের পক্ষে, কিছু বিপক্ষে কাজ করেছে। কিন্তু আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমে যে সংস্কার আশা করা হয়েছিল, তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। গণমাধ্যম এখনো আগের মতোই নিয়ন্ত্রিত।”
গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “আমাদের অনেক আন্দোলনকারীকে ‘আয়না ঘর’ নামের একটি স্থানে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন চালানো হয়েছে। আন্দোলন বন্ধ করতে নেতাদের গুমের হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমি নিজে গুম কমিশনে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”
সেনা গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার দাবি করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচজন ডিজির নাম গুমের ঘটনায় উঠে এসেছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তাদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। একইভাবে, যেসব সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে, তাদেরও অনেককে এক বছরের বেশি সময় ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখা হয়েছে।”
এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সন্তোষ প্রকাশ করেছি। এটা বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ এবং আমরা চাই এটি নিরপেক্ষভাবে এগিয়ে যাক।”
প্রসঙ্গত, নাহিদ ইসলাম এর আগে তার জবানবন্দিতে দাবি করেছিলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বন্ধ করতে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছিল রাষ্ট্র। আন্দোলনের সময় তাদেরকে গোপন স্থানে নিয়ে চাপ প্রয়োগ করা হতো।





