মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া ইউরোপ কিংবা ন্যাটো নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট। ইউরোপ যদি আমেরিকার বাইরে গিয়ে নিজস্ব নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে পারে-এমন ধারণাকে তিনি ‘অবাস্তব স্বপ্ন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সোমবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে রুট বলেন, আমেরিকার সহযোগিতা ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা পুরো ইউরোপের পক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাস্তবে সম্ভব নয়। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ন্যাটোর মহাসচিব আরও বলেন, ইউরোপ যদি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গিয়ে একা চলতে চায়, তাহলে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে। সে ক্ষেত্রে ইউরোপীয় দেশগুলোকে জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ প্রতিরক্ষায় ব্যয় করতে হবে এবং নিজস্ব পারমাণবিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। এতে কয়েক শ কোটি ইউরো ব্যয় হবে এবং ইউরোপ হারাবে মার্কিন পারমাণবিক ছাতার সুরক্ষা।
ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে এমন মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত অবস্থান ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানার দাবি তুললেও পরে জানান, দ্বীপটি দখলে নিতে তিনি শক্তি প্রয়োগ করবেন না।
এ প্রেক্ষাপটে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ইস্যু সামনে আনার জন্য ট্রাম্পের প্রশংসা করেন মার্ক রুট। তিনি বলেন, আর্কটিক অঞ্চলে বরফ গলে নতুন সমুদ্রপথ তৈরি হচ্ছে এবং সেখানে চীন ও রাশিয়ার তৎপরতা বাড়ছে, যা যৌথ নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ভবিষ্যতে দুটি পথে কাজ হবে বলেও জানান ন্যাটো প্রধান। এর মধ্যে আর্কটিক অঞ্চলের প্রতিরক্ষায় ন্যাটোর সমষ্টিগত ভূমিকা জোরদার করা এবং যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা অব্যাহত রাখা অন্তর্ভুক্ত। তবে এসব আলোচনায় নিজে যুক্ত থাকবেন না বলে স্পষ্ট করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্ক রুটের এই বক্তব্য ইউরোপের নিরাপত্তা নীতি, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা জোরদার করেছে।





