ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আক্রমণকারী মার্কিন-ইসরাইলি জোটের বিরুদ্ধে ৮২তম দফার প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, এই অভিযানে বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং বেসামরিক স্থাপনায় সাম্প্রতিক বিমান হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে বৃহস্পতিবার ভোরে এই অভিযান শুরু হয়, যা সারাদিনব্যাপী অব্যাহত থাকবে।

আইআরজিসির তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের আরিফজান ও আল-খারজ জেলায় অবস্থিত মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, মার্কিন প্রতিরক্ষা লজিস্টিক সাইট, বাহরাইনের শেখ ঈসা অঞ্চলে অবস্থিত প্যাট্রিয়ট রাডার সিস্টেম, মার্কিন সামরিক বাহিনীর জ্বালানি ডিপো, নজরদারি বিমানের হ্যাঙ্গার, এম-কিউ রিপার কমব্যাট ড্রোনের হ্যাঙ্গার এবং আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন করা ড্রোনের স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন ডিশ বিশাল এক ঝাঁক ‘কামিকাজে’ ড্রোনের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়েছে।

এই প্রতিশোধমূলক হামলাগুলো ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ পূর্ব আজারবাইজান, আরদাবিল, গিলান, মাজানদারান এবং গোলেস্তানের বীর জনতাকে উৎসর্গ করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, অধিকৃত অঞ্চলে অবস্থিত একটি সামরিক কমান্ড সেন্টার এবং ডেড সির কাছে ইসরাইলি পারমাণবিক কর্মসূচির সাথে সংশ্লিষ্ট শিল্পকারখানাগুলোতেও অত্যন্ত নিখুঁত ও বিধ্বংসী হামলা চালানো হয়েছে। ইতিমধ্যে অধিকৃত অঞ্চল থেকে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের দৃশ্য দেখা গেছে।

 আইআরজিসি জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় 'অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স' বা প্রতিরোধ যোদ্ধারা মোট ২৩০টি সফল অভিযান পরিচালনা করেছে, যা মার্কিন স্বার্থ এবং ইসরাইলি অবস্থানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় মাপের হামলা। এর মধ্যে লেবাননের হিজবুল্লাহ ৮৭টি, ইরাকি ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স গ্রুপ ২৩টি এবং ইরানি সশস্ত্র বাহিনী ১১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

বিবৃতিতে পশ্চিম এশিয়ার এই চলমান সংঘাতকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের দ্বারা চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আইআরজিসি জোর দিয়ে বলেছে যে, অঞ্চল থেকে ‘স্বৈরাচারী ও আগ্রাসনকারীদের হাত বিচ্ছিন্ন না হওয়া’ এবং প্রকৃত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে না আসা পর্যন্ত এই বৃহৎ আকারের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাল্টা জবাব অব্যাহত থাকবে।

 উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডার এবং বেসামরিক নাগরিককে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে এই ব্যাপক ও উস্কানিমূলক সামরিক অভিযান শুরু করে।

এই আগ্রাসনে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় দফায় দফায় হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবেই ইরানি সশস্ত্র বাহিনী পশ্চিম এশিয়াজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি এবং অধিকৃত অঞ্চলে ইসরায়েলি অবস্থানের ওপর এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।