নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পদপ্রার্থী জোহরান মামদানির বিরুদ্ধে এক বিস্তৃত ও সংঘবদ্ধ আক্রমণে নেমেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমর্থক দল ও প্রবাসী ভারতীয় হিন্দু সম্প্রদায় তাকে ‘হিন্দুবিদ্বেষী’ এবং ‘দেশবিরোধী’ প্রার্থী হিসেবে চিত্রিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

প্রচারের শেষ মুহূর্তে, প্রাথমিক নির্বাচনের ঠিক আগে, স্ট্যাচু অব লিবার্টির ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া একটি বিমানে ঝোলানো ব্যানারে লেখা ছিল—“সেভ নিউইয়র্ক ফ্রম গ্লোবাল ইন্তিফাদা অ্যান্ড রিজেক্ট মামদানি”। ব্যানারটি মূলত ইহুদি ভোটারদের টার্গেট করলেও এর পেছনে সক্রিয় ছিল ভারতীয়-আমেরিকান হিন্দু গোষ্ঠী। মামদানির অতীতে মোদির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা ও ভারতীয়-আমেরিকানদের একটি অংশকে ‘হিন্দু ফ্যাসিবাদী’ আখ্যা দেওয়াও এই আক্রমণের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

মামদানি একজন মুসলিম, যিনি ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাজনীতির কড়া সমালোচক। তিনি ২০২০ সালের নির্বাচনে নিউইয়র্ক রাজ্য অ্যাসেম্বলির সদস্য নির্বাচিত হন এবং এবার মেয়র পদে লড়ছেন। নির্বাচনী প্রচারে ‘গ্লোবাল ইন্তিফাদা’ স্লোগান ব্যবহার করাকে ঘিরে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও মামদানি পরে জানিয়েছেন, এ ধরনের স্লোগান ব্যবহার তিনি নিরুৎসাহিত করবেন।

ভারতের হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির ছায়া এবার স্পষ্টভাবে নিউইয়র্ক সিটির নির্বাচনে পড়েছে। মোদিপন্থী ভারতীয় মিডিয়া ও প্রবাসী গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে মামদানির বিরুদ্ধে চালানো হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক আক্রমণ। গত ১৩ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ভারতীয় ডানপন্থী অ্যাকাউন্ট থেকে মামদানিকে নিয়ে ৬০০-র বেশি সমালোচনামূলক পোস্ট ছড়ানো হয়, যেগুলোর ফলোয়ার সংখ্যা কয়েক লাখ।

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদির নিজ রাজ্য গুজরাট থেকে আসা মামদানির পরিবার এবং মা মীরা নায়ার (একজন খ্যাতনামা প্রগতিশীল চলচ্চিত্র নির্মাতা) হওয়াও তাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।

নিউইয়র্কে প্রায় সাড়ে চার লাখ দক্ষিণ এশীয় ভোটার থাকলেও হিন্দুদের মধ্যে মামদানির বিরোধিতা কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তরুণ, মুসলিম এবং প্রগতিশীল ভোটারদের কাছ থেকে মামদানি ব্যাপক সমর্থন পেয়ে আসছেন।

এদিকে, মামদানির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামস। প্রবাসী গোষ্ঠীগুলোর আর্থিক সমর্থন তার দিকেই ঝুঁকেছে। এমনকি অ্যাডামস অতীতে মোদির সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করেছেন এবং একটি তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন, যা বিজেপি ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত দেয়।

চূড়ান্ত নির্বাচনের আগে মামদানির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, প্রবাসী হিন্দু গোষ্ঠীগুলোর সমালোচনার মুখে কীভাবে তিনি তার অবস্থান ধরে রাখবেন এবং মূলধারার ভোটারদের আশ্বস্ত করতে পারবেন। তথ্যসূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস