জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সংসদ ভবন এলাকা। শুক্রবার দুপুরে ‘জুলাই যোদ্ধা’দের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত কয়েকজন আহত হয়েছেন।

দুপুর ১টা ২৫ মিনিটের দিকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে আন্দোলনকারীরা মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সড়কে থাকা টায়ার ও প্লাস্টিকের জিনিসপত্রে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। সংসদ ভবনের আশপাশে তীব্র ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষও ওই এলাকায় চলাচল করতে পারেননি।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

শুক্রবার সকাল থেকেই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ছাত্র-জনতা তিন দফা দাবিতে অবস্থান নেন— আহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, আইনগত সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এবং এসব দাবি “জুলাই জাতীয় সনদ–২০২৫”-এ অন্তর্ভুক্ত করা।

দুপুরের দিকে আন্দোলনকারীরা সংসদ ভবনের ১২ নম্বর গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। তখনই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরো সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকা ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যদের টহল জোরদার করা হয়েছে। মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে দক্ষিণ প্লাজা পর্যন্ত এলাকাজুড়ে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।