রাখাইনে মানবিক সহায়তা পাঠাতে করিডর চালু করতে হলে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইস। তিনি বলেন, এমন চুক্তি হলে জাতিসংঘ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত থাকবে।
\r\nবুধবার (৪ জুন) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
\r\nগোয়েন লুইস বলেন, “মানবিক করিডর একটি আইনি প্রক্রিয়া। এ বিষয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয়ের সম্মতি ছাড়া জাতিসংঘ সরাসরি সম্পৃক্ত হতে পারবে না।”
\r\nএর আগে গত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন রাখাইনে মানবিক সংকটের কথা তুলে ধরে ‘মানবিক করিডর’ চালুর প্রস্তাবের কথা জানান। তবে দেশের সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন মহলের আপত্তির মুখে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান পরে জানান, ‘মানবিক করিডর’ নয়, ‘মানবিক চ্যানেল’ চালুর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।
\r\nদুই উপদেষ্টাই বলেন, রাখাইনে মানবিক সহায়তা পাঠানোর সঙ্গে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও যুক্ত করার চেষ্টা করছে সরকার। তাঁদের মতে, রাখাইনে সহায়তা পৌঁছাতে পারলে স্থানীয় পরিস্থিতির উন্নয়ন হবে, যা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পথ সহজ করতে পারে।
\r\nউল্লেখ্য, গত নয় বছরে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগীদের নির্যাতনের কারণে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি হলেও আজ পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরত যায়নি।





