ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের ঘটনার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির শতাধিক শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মাদুরোকে গ্রেফতারের পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয় জড়িত রয়েছে।
বিক্ষোভগুলোতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, ল্যাটিন আমেরিকান অভিবাসী গোষ্ঠী এবং বামপন্থি রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর নেতারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি সার্বভৌম দেশের নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে গ্রেফতার করে বিশ্বে বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তারা এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শক্তির অপব্যবহার হিসেবে আখ্যা দেন।
নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো, সান ফ্রান্সিসকো, হিউস্টন, মায়ামি ও ওয়াশিংটন ডিসিসহ বড় বড় শহরে বিক্ষোভকারীরা “স্টপ ইম্পেরিয়ালিজম”, “মাদুরো মুক্তি দাও” এবং “ট্রাম্প যুদ্ধাপরাধী” লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন। অনেক জায়গায় পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভকারীরা গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নেয়, ফলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় থাকার সময় থেকেই ভেনেজুয়েলার ওপর নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক অবরোধ ও রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে আসছে। মাদুরোকে গ্রেফতার সেই ধারাবাহিক চাপেরই চরম রূপ। তারা দাবি করেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ল্যাটিন আমেরিকার রাজনীতিতে আবারও হস্তক্ষেপের নীতি জোরদার করছে।
এদিকে বিক্ষোভের বিষয়ে ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা বলেন, মাদুরোর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মাদক পাচারের অভিযোগ রয়েছে এবং গ্রেফতার আন্তর্জাতিক আইনের আওতাতেই হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যাখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মাদুরোকে গ্রেফতারের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। আসন্ন নির্বাচনের আগে ট্রাম্পকে ঘিরে এ ধরনের গণবিক্ষোভ তার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও চাপে ফেলতে পারে।
বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মাদুরোকে মুক্ত না করা হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে এবং তা দেশব্যাপী দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচিতে রূপ নিতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশ কয়েকটি শহরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন।





