ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর দেশটিতে অন্তত আগামী ৩০ দিন কোনো নির্বাচন হবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে, আগে ভেনেজুয়েলাকে ‘স্বাভাবিক অবস্থায়’ ফিরিয়ে আনা জরুরি। প্রয়োজনে ওয়াশিংটন সরাসরি দেশটির পরিচালনায় ভূমিকা নেবে এবং সেখানে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।


বার্তাসংস্থা আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এখনই নির্বাচন আয়োজনের মতো পরিস্থিতি ভেনেজুয়েলায় নেই। জনগণের ভোট দেওয়ার সক্ষমতাও নেই। সময় নিয়ে দেশটিকে ধীরে ধীরে স্থিতিশীল করতে হবে।


ট্রাম্প জানান, শনিবারের এক সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়েছে। আপাতত যুক্তরাষ্ট্র দেশটির শাসনব্যবস্থায় যুক্ত থাকবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুদ্ধ করছে না। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের লড়াই মাদক চক্র, অপরাধী ও সেই সব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যারা অপরাধী, মাদকাসক্ত ও মানসিক রোগীদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠায়।


এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও জানান, ভেনেজুয়েলার জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠনে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে যুক্ত করা হতে পারে। তাঁর ধারণা, এই কাজ ১৮ মাসের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব। এতে বিপুল অর্থ ব্যয় হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুরুতে কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করবে, পরে তা ফেরত দেওয়া হবে বা রাজস্ব থেকে সমন্বয় করা হবে।


ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা যুক্ত থাকবেন বলেও জানান ট্রাম্প। তাঁর ভাষায়, সবাই মিলেই কাজ করবে এবং প্রত্যেকের আলাদা দক্ষতা রয়েছে।


এদিকে সোমবার নিউইয়র্কের আদালতে হাজির হয়ে মাদুরো তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি নিজেকে এখনো ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট বলে দাবি করেন। অন্যদিকে মাদুরো আটক হওয়ার পর দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। ট্রাম্প বলেন, রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করছেন। তবে মাদুরো আটক হওয়ার আগে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো যোগাযোগ ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।


রদ্রিগেজের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান ট্রাম্প। মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরাতে ভেনেজুয়েলার কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল কি না— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অনেকেই চুক্তি করতে চেয়েছিলেন, তবে যুক্তরাষ্ট্র এই পথেই এগিয়েছে।


রদ্রিগেজ সহযোগিতা না করলে দ্বিতীয় সামরিক অভিযানের সম্ভাবনার কথাও উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প। যদিও তাঁর বিশ্বাস, সে রকম পরিস্থিতি তৈরি হবে না।


এদিকে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ায় তাঁকে নেতৃত্বের দৌড় থেকে সরিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে এই দাবি নাকচ করে ট্রাম্প বলেন, তাঁর সিদ্ধান্তের সঙ্গে নোবেল পুরস্কারের কোনো সম্পর্ক নেই।