কুয়েত সরকার ভিজিট ভিসা নীতিতে একাধিক শিথিলতা এনেছে এবং ফ্যামিলি ভিজিট ভিসার মেয়াদ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। আরব টাইমস-এর বরাতে জানা যায়, এতদিন ভিজিট ভিসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি বাধ্যতামূলক থাকলেও, সেটি এখন বাতিল করা হয়েছে।


\r\n

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পারিবারিক ভিজিট ভিসার প্রাথমিক মেয়াদ ৩ মাস, তবে তা ৬ মাস বা ১ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। কুয়েত সরকার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশটিকে পর্যটক ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে চায় এবং প্রবাসীদের জন্যও নতুন স্বস্তির সুযোগ তৈরি করতে চায়।

\r\n

কুয়েতের প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ ইউসুফ সৌদ আল-সাবাহ জানান, কুয়েত ভিসা প্ল্যাটফর্মে বিদ্যমান জটিলতা ও নাগরিক-প্রবাসীদের অভিযোগ আমলে নিয়ে এই নতুন নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে।


\r\n

তিনি বলেন, ‘আমরা খোলা মনে জনগণের মন্তব্য গ্রহণ করছি, কারণ আমাদের লক্ষ্য কুয়েতকে নেতা হিসেবে গড়ে তোলা। আমরা পরিপূর্ণতার দাবি করি না, কিন্তু উন্নতির জন্য সদা সচেষ্ট।’

\r\n

আরব টাইমস আরও জানায়, ভিজিট ভিসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রির পূর্বশর্ত বাতিল করার পাশাপাশি আত্মীয়তার ক্ষেত্রেও শিথিলতা আনা হয়েছে। এখন চতুর্থ ডিগ্রী পর্যন্ত আত্মীয়দের জন্য ভিসা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যার ফলে প্রবাসীদের পরিবার-পরিজনের কুয়েত ভ্রমণ অনেক সহজ হবে।


\r\n

নতুন ভিসা নীতিতে আরেকটি বড় পরিবর্তন এসেছে বিমান যাত্রার ক্ষেত্রে। এতদিন পারিবারিক ভিজিট ভিসাধারীদের কেবল কুয়েতি এয়ারলাইন্সে যাতায়াত করতে হতো, কিন্তু এখন থেকে মিডল ইস্ট এয়ারলাইন্সসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাও এই যাত্রীদের বহন করতে পারবে। এতে যাত্রীরা যেমন বিকল্প সুবিধা পাবেন, তেমনি টিকিটের দামও তুলনামূলকভাবে প্রতিযোগিতামূলক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


\r\n

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, রাষ্ট্র কোনো বিমান সংস্থার বিপণনকারী নয়। তাদের নিজেদের বাজার তৈরি করতে হবে। তিনি আরও বলেন, কুয়েত একটি বিশাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ করছে এবং কুয়েতকে আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বাণিজ্যের একটি কেন্দ্রে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য।


\r\n

ভিসা ফি নির্ধারণের বিষয়টি এখন মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে, নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণদের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।


\r\n

মন্ত্রী বলেন, যারা দেশের বাণিজ্যিক কার্যকলাপে মূল্য যোগ করে না কিংবা নিজেদের অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করতে পারেন না, তাদের জন্য কুয়েতের দরজা খোলা নয়।


\r\n

বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত কুয়েতবাসী ও প্রবাসীদের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। সহজতর ও নমনীয় ভিসা নীতির মাধ্যমে কুয়েত একদিকে পরিবার পুনর্মিলনের সুযোগ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে নিজেদের অর্থনীতিকেও বিশ্বের কাছে উন্মুক্ত করছে। এতে কুয়েতের পর্যটন ও বাণিজ্যিক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।