জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের তিন কর্মকর্তা বিদেশে পালিয়েছেন। এদের মধ্যে দুই কর্মকর্তা ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর হয়ে কাজ করেছেন এবং সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ নথি পাচার করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।

পালিয়ে যাওয়া কর্মকর্তারা হলেন এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক বদরুল আহমেদ (বিদ্যুৎ), উপপরিচালক আমিনুল হক পলাশ ও সহকারী পরিচালক তানভীর হোসেন খন্দকার। দুবাই কনস্যুলেট, কলকাতা মিশন ও ঢাকা থেকে তারা পালিয়েছেন। এর মধ্যে পলাশ বিকল্প পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভারত থেকে ব্রিটিশ ভিসা নিয়ে লন্ডনে চলে গেছেন। তবে বদরুল আহমেদ ও তানভীর হোসেন বর্তমানে কোথায় আছেন তা নিশ্চিত হতে পারেনি এনএসআই সদর দপ্তর।

ড. ইউনূসকে লক্ষ্য করে নিযুক্ত ছিলেন পলাশ

সূত্র জানিয়েছে, উপপরিচালক আমিনুল হক পলাশ ছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের দায়ের করা মামলাগুলোর মূল পরিকল্পনাকারী। তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, ‘র’-এর এজেন্ট হিসেবে তিনি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্যও পাচার করেছেন। বর্তমানে তিনি লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন।

বদরুলের ভূমিকা নির্বাচনে

অন্যদিকে যুগ্ম পরিচালক বদরুল আহমেদের দায়িত্ব ছিল ২০১৮ সালের নির্বাচনে রাতের ভোট আয়োজন এবং ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করা। তার বিরুদ্ধে বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগও রয়েছে।

ভুয়া সনদে চাকরিতে যোগদান

সহকারী পরিচালক তানভীর হোসেন খন্দকার জাল সনদ দিয়ে চাকরিতে যোগ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বাবা র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেনও বর্তমানে পলাতক।

তদন্তে এনএসআই

এনএসআই কর্তৃপক্ষ তিন কর্মকর্তা পালানোর বিষয়টি স্বীকার করেছে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমিনুল হক পলাশ লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার বিষয়টি ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-৬কেও জানানো হয়েছে।

শৃঙ্খলা ফেরাতে উদ্যোগ

এনএসআই জানিয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের আগে এই কর্মকর্তারা রাজনৈতিক ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ফাইল পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থার ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।