ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন এবং গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে পরিচিত বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিভিন্ন দেশ থেকে শোকবার্তা পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তার জানাজায় উপস্থিত হয়ে শোক জানায় বহু দেশের প্রতিনিধি। এটি খালেদা জিয়ার জন্য একটি সম্মান এবং গৌরবের বিষয়।


তবে, মঞ্চ২৪ের মতে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের শোকবার্তা তারেক রহমানের হাতে হস্তান্তর করা খালেদা জিয়ার প্রতি অসম্মান হিসেবে বিবেচিত। মঞ্চ২৪ মনে করছে, ভারতের এই ‘শোকবার্তা’ গ্রহণ করা খালেদা জিয়ার আদর্শ ও মর্যাদায় আঘাত।


খালেদা জিয়া জীবদ্দশায় গণতন্ত্র রক্ষা এবং ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার জন্য কারও সঙ্গে আপোষ করেননি। বাংলাদেশের জনগণ স্মরণ করছে, ২০১৫ সালে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর গুলশানের কার্যালয়ে খালেদা জিয়াকে দেখা দেয়ার নাটক ছিল। সে সময়ও তিনি নিজের সন্তানের খুনিকে শোক জানাননি। মঞ্চ২৪ের মতে, বিএনপির উচিত ছিল খালেদা জিয়ার আপসহীন নীতিকে অনুসরণ করা এবং ভারতের কথিত শোকবার্তা প্রত্যাখ্যান করা।


মঞ্চ২৪ আরও জানায়, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিট ধারণ করে, স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোনো স্বাধীন সিদ্ধান্তে কাজ করেননি; তিনি ভারতের নির্দেশনা অনুসরণ করে খালেদা জিয়াকে জেলে বন্দি করেছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে দেশে একের পর এক গণহত্যা চালানো হয়েছে, যার পেছনে ভারতীয় মদদ রয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়া জীবদ্দশায় ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন।


মঞ্চ২৪ের আহ্বান, আজ যখন পুরো বিশ্ব শোকাহত, তখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ভারতের শোকবার্তা এবং শেখ হাসিনার শোকবার্তা প্রত্যাখ্যান করুন। খুন ও খুনিদের আশ্রয় সমানভাবে অপরাধ।


মঞ্চ২৪ মনে করে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান, শাপলা গণহত্যা, খালেদা জিয়াকে কারাগারে হত্যার পরিকল্পনা, শহিদ ওসমান বিন হাদির হত্যাসহ সকল গুম-খুনের মাস্টারমাইন্ড ভারতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত, এবং এস জয়শঙ্করের এই বিষয়গুলির সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে। একজন গণহত্যাকারী এবং আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধের সহযোগীর হাত থেকে শোকবার্তা গ্রহণ খালেদা জিয়ার সম্মানের জন্য আঘাতজনক।