ভারতের শিক্ষাক্রমে প্রথমবারের মতো যুক্ত হতে যাচ্ছে সাম্প্রতিক আলোচিত সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’। ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং অনুমোদিত পাঠ্যবইয়ে এই অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যা তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হবে।
প্রতিবছর ২২ এপ্রিল স্মরণে থাকবে কাশ্মীরের পহেলগামে সংঘটিত সেই ভয়াবহ জঙ্গি হামলার দিন, যেখানে ২৬ জন নিরীহ পর্যটক নিহত হন। ওই হামলার জবাবে ভারত ৭ মে রাত ১টা ০৫ মিনিটে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে চালায় একটি সুপরিকল্পিত সামরিক অভিযান, যার মাধ্যমে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা ৯টি সন্ত্রাসী ঘাঁটি ধ্বংস করার দাবি করা হয়।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। পরবর্তী চারদিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ভারত ও পাকিস্তান।
পাঠ্যবইয়ে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শিরোনামে ৮–১০ পৃষ্ঠার একটি অধ্যায় থাকবে। এতে কেবল সামরিক অভিযান নয়, বরং ভারতের কূটনৈতিক প্রস্তুতি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়, বেসামরিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, এবং সেনাবাহিনীর কৌশলগত দিকগুলোও তুলে ধরা হবে।
এছাড়া, ‘অপারেশন সিঁদুর: এ সাগা অব ভ্যালার’ (প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের জন্য) এবং ‘অপারেশন সিঁদুর: এ মিশন অব অনার অ্যান্ড ব্রেভারি’ (উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের জন্য) শিরোনামে পৃথক পাঠ্যাংশ প্রকাশ পাবে।
অপারেশন সিঁদুর’ নামটি প্রতীকীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। সিঁদুর ভারতীয় সংস্কৃতিতে বিবাহ, ভালোবাসা এবং নারীর মর্যাদার প্রতীক। পহেলগামের হামলায় যেসব নারী স্বামী হারান, সেই বিধবাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানিয়ে এ নামকরণ করা হয়।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মন্তব্য করেছেন,
“‘অপারেশন সিঁদুর’ কেবল একটি সামরিক অভিযান নয়, এটি কোটি মানুষের আবেগ ও ন্যায়বিচারের প্রতিফলন।”
পাকিস্তানকে দায়ী করা হয়েছে স্পষ্টভাবে
পাঠ্যবইয়ের ভাষ্যে স্পষ্টভাবে পাকিস্তানকে পহেলগাম হামলার জন্য দায়ী করা হয়েছে। বলা হয়েছে“পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব এই হামলায় জড়িত ছিল। ভারত বারবার সন্ত্রাসী ঘাঁটি বন্ধের আহ্বান জানালেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।”
অন্যদিকে, পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানায়।
পাল্টা হামলা ও সংঘাতভারতের বিমানবাহিনী মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুরে অবস্থিত লস্কর-ই-তৈয়েবা ও জইশ-ই-মোহাম্মদ ঘাঁটিতে হামলা চালায়।
এ ঘটনার জবাবে পাকিস্তান শুরু করে ‘অপারেশন বুনিয়ানুন মারসুস’, যাতে উভয় দেশ যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। ভারত পরে দাবি করে, তারা কমপক্ষে পাঁচটি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে এবং প্রথমবারের মতো একটি রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাও স্বীকার করে।
টানা কয়েকদিনের সংঘাত শেষে, ১০ মে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।





