কুবি প্রতিনিধি : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। বাস সার্ভিস, বাইক সার্ভিস, খাবার, মডেল টেস্টসহ নানা উদ্যোগের মাধ্যমে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাশে ছিল সংগঠনটি।


শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে বিভিন্ন কেন্দ্রে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা এসব সেবা প্রদান করেন। এ সময় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য জুলাই আন্দোলনের নয়জন শহীদের নামে বিশেষ তথ্য ও সেবা কেন্দ্র এবং শহীদ শরীফ উসমান বিন হাদীর নামে একটি গার্ডিয়ান প্যাভিলিয়ন চালু করা হয়।


জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাইদ, শহীদ মীর মুগ্ধ, শহীদ আব্দুল কাইয়ুম, শহীদ ওয়াসিম, শহীদ আবরার ফাহাদ, শহীদ তাহমিদ, শহীদ আলী রায়হান এবং শহীদ ফয়সাল আহমেদ শান্তর নামে তথ্যকেন্দ্রগুলোর নামকরণ করা হয়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও কোটবাড়ি এলাকার আশপাশের বিভিন্ন কেন্দ্রে এসব তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়। সেখান থেকে পরীক্ষার সিট প্ল্যান, গন্তব্য নির্দেশনা, ভাড়া সম্পর্কে সচেতনতা ও জরুরি তথ্য সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি খাবার পানি, কলম বিতরণ, রাতের খাবার এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়। জরুরি যাতায়াতের জন্য বাইক সার্ভিস এবং রাতে নিরাপদ চলাচলের জন্য বাস সার্ভিস চালু করা হয়।


চট্টগ্রাম থেকে আগত ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী শুমাইতা ইবনাত বলেন, ছাত্রশিবিরের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, বাবাকে সঙ্গে নিয়ে এসে তাদের সহায়তায় লাউঞ্জে রেখে পরীক্ষা দিতে পেরেছেন, যা তার জন্য স্বস্তিদায়ক ছিল।


আরেক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী মো. নাঈম হোসেন বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসে ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম তাকে মুগ্ধ করেছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, এই প্রথম তিনি জানতে পেরেছেন যে জুলাই আন্দোলনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল কাইয়ুম শহীদ হয়েছিলেন।


ছাত্রশিবির কুবি শাখার সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন আবির বলেন, ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে সংগঠনটি প্রতিবারের মতো এবারও শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য ‘আর-রিহলা’ বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে, বিভিন্ন কেন্দ্রে নয়টি তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং রাতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পাসের আশপাশের বিভিন্ন মসজিদে থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।