ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার হাওরবেষ্টিত অরুয়াইল বাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবদল ও বিএনপির এক নেতার অনুসারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অরুয়াইল ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক গাজী আবদুল আজিজ (৪৫) এবং বিএনপি নেতা আবদুল খালেকের (৪৭) অনুসারীদের মধ্যে শনিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। এ সময় বাজার এলাকার একাধিক দোকানপাট ও বসতবাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এর আগে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে অরুয়াইল বাজারে গাজী আবদুল আজিজের নেতৃত্বে কয়েকজন আবদুল খালেককে মারধর করে বাজার এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেন। এর জেরে শনিবার বেলা ১১টার দিকে আবদুল খালেকের লোকজন গাজী আবদুল আজিজকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। এতে তার মাথা ফেটে যায়। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
উত্তেজনার কারণে শনিবার সকাল থেকেই অরুয়াইল বাজারের সহস্রাধিক দোকান বন্ধ থাকে। আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা দোকান খুলতে পারেননি। দুপুরের পর ধামাউড়া ও রাণীদিয়া গ্রামের লোকজন ইট-পাটকেল, লাঠিসোঁটা ও বল্লম নিয়ে বাজারের অলিগলিতে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন।
সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে সরাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হয়। গুরুতর আহত গাজী আবদুল আজিজকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘটনার পর রাতে উভয় গ্রামের লোকজন পৃথকভাবে বৈঠক করেন।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ সময় সংঘর্ষ চলেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং অরুয়াইল বাজার এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





