বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর রাজনৈতিক রূপ নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলেও দলটির কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে, বলছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সোমবার রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে টিআইবির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘নতুন বাংলাদেশ: কর্তৃত্ববাদী সরকার পতন-পরবর্তী এক বছরের ওপর পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।
টিআইবির গবেষণা অনুযায়ী, সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতি ও জনসম্পৃক্ততার প্রত্যয় নিয়ে গড়ে ওঠা এনসিপি বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই সেই আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। দলটির অর্থের উৎসের অস্বচ্ছতা, দলবাজি, চাঁদাবাজি, অনিয়ম এবং দখলদারিত্বের সংস্কৃতি ধারণ করায় তা আত্মঘাতী পথে ধাবিত হচ্ছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়।
টিআইবির গবেষণা ফেলো মো. জুলকারনাইন বলেন, “নির্বাচনের সময়সূচি, সংস্কার ও অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও সন্দেহ সংস্কার প্রক্রিয়া ব্যাহত করছে। এনসিপির অভ্যন্তরেও মতাদর্শিক বিভাজন ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব স্পষ্ট।”
তিনি আরও জানান, নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা এনসিপিসহ অনেক দলই নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। নিবন্ধনের জন্য আবেদন জমা পড়লেও বেশিরভাগই নামসর্বস্ব ও সাংগঠনিকভাবে দুর্বল দল।
এছাড়া, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং পুরনো জোট ভেঙে নতুন জোট গঠনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে জানান গবেষকরা।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী আন্দোলনের মধ্যে রাজনৈতিক মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব এবং একাংশ কর্তৃক রাজনৈতিক দল গঠন স্পষ্ট করেছে যে এ আন্দোলন রাজনৈতিক রূপ নিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, গবেষণা ফেলো শাহজাদা এম আকরাম ও ফারহানা রহমানসহ অন্যান্য বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন।





