ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় শহর কলকাতা এবং এর আশেপাশের এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির ফলে রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেছে, যানবাহন আটকা পড়েছে, এবং ট্রেন ও বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বহু মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা জলমগ্ন এলাকায় আটকা পড়েছেন।
\r\nভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (আইএমডি) প্রধান এইচ আর বিস্বাস জানিয়েছেন, কলকাতায় মাত্র ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ২৫১.৬ মিলিমিটার (৯.৯ ইঞ্চি) বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, যা ১৯৮৮ সালের পর সবচেয়ে ভারী বৃষ্টি।
\r\nকলকাতা পুলিশ জানায়, শহরে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই বৈদ্যুতিক শকের কারণে। অন্যদিকে, দুইজন ডুবে মারা গেছেন। বৃষ্টির কারণে কলকাতা শহর কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে, এবং দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি ব্যাহত হয়েছে। বেশ কয়েকটি প্যান্ডাল ও মাটির মূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
\r\nরাস্তা, ট্রেন ও বিমান চলাচল দুর্বল হয়ে পড়েছে। একাধিক ট্রেন এবং ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে, আর বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শহরের অনেক এলাকা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্ধকারে ছিল।
\r\nএদিকে, রঞ্জন পাণ্ডা নামে একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, \"আমার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে যাওয়ায় হোটেলেই আটকা পড়েছি।\" প্রশাসন পানি নিষ্কাশনের জন্য পাম্প মোতায়েন করেছে এবং খাদ্য বিতরণ ও জরুরি সেবা চালু করেছে।
\r\nআবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের সৃষ্টি হওয়ায় আগামী কয়েক দিন রাজ্য ও পূর্ব ভারতের অন্যান্য অংশে আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
\r\nরাজ্য সরকার আজ (বুধবার) এবং বৃহস্পতিবার স্কুলসহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে, তবে নিচু এলাকাগুলিতে পানি কমতে শুরু করলেও জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
\r\nস্থানীয় বাসিন্দা সন্দীপ ঘোষ সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, \"শুধু চার ঘণ্টার বৃষ্টিতে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া উচিত ছিল না। পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা খুব ভালো নয়।\"





