বিয়ের বাইরে যৌন সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে সংশোধিত নতুন ফৌজদারি দণ্ডবিধি কার্যকর করেছে ইন্দোনেশিয়া। নতুন এই আইনের আওতায় বিয়ের বাইরে যৌন সম্পর্কে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।


\r\n

ইন্দোনেশিয়ার সরকার জানিয়েছে, নতুন ক্রিমিনাল কোডটি দেশের সব অঞ্চলে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। এর আওতায় পর্যটনসমৃদ্ধ এলাকা বালিসহ দেশের যেকোনো স্থানে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিক ও পর্যটকরাও আইনের বাইরে থাকবেন না। ফলে আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।


\r\n

তবে সরকারি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই আইনটি অভিযোগভিত্তিক। অর্থাৎ, স্বামী বা স্ত্রী, বাবা-মা কিংবা সন্তান ছাড়া অন্য কেউ এ বিষয়ে মামলা করতে পারবেন না। সংশ্লিষ্ট পরিবারের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়া আইন প্রয়োগ করা যাবে না। এ কারণে পর্যটকদের বিরুদ্ধে এই আইন নির্বিচারে ব্যবহারের আশঙ্কা কম বলে মনে করছে সরকার।


\r\n

ইন্দোনেশিয়ার আইনমন্ত্রী বলেন, এই আইন দেশটির সামাজিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধ সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। তাদের দাবি, পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাব থেকে সমাজকে রক্ষা করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


\r\n

অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই আইনের কড়া সমালোচনা করেছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন আইন ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, গোপনীয়তা এবং মানবাধিকারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, অবিবাহিত যুগল এবং পর্যটকদের ক্ষেত্রে হয়রানির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে তারা মনে করছে।


\r\n

বিশ্লেষকদের মতে, অভিযোগভিত্তিক হলেও এই আইন ভবিষ্যতে সামাজিক নজরদারি বাড়াতে পারে এবং ব্যক্তিগত জীবনে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের পথ খুলে দিতে পারে। ফলে ইন্দোনেশিয়ার এই সিদ্ধান্ত শুধু দেশটির অভ্যন্তরেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরেও নীতিগত বিতর্ক তৈরি করেছে।