ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে তীব্রভাবে পড়ছে। সোমবার (৯ মার্চ) এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরু হতেই আন্তর্জাতিক তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ১১১.০৪ ডলারে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ১০৭.৪০ ডলারে পৌঁছেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো উৎপাদন কমিয়েছে, পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তেলের দাম আরও অস্থির হচ্ছে। জেপি মরগানের প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্রুস কাসম্যান বলেছেন, বিশ্ব অর্থনীতি এখনও মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল এবং সেগুলো মূলত হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে সরবরাহ হয়। তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছাতে পারে, তবে সংঘাত দ্রুত কমলে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে।
এদিকে, অয়েল প্রাইস ডট কমের তথ্যানুসারে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইতিমধ্যেই ব্যারেল প্রতি ১১৫ ডলারে উঠেছে। ইরাক ও কুয়েত তেল উৎপাদন হ্রাস করেছে, আর কাতার তাদের এলএনজি সরবরাহ কমিয়েছে। বসরা অয়েল কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের স্টোরেজ প্রায় খালি, ফলে উৎপাদন ৭০ শতাংশ কমিয়ে মাত্র ১.৩ মিলিয়ন ব্যারেলে নামানো হয়েছে।
যুদ্ধ চলতে থাকায় হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির। এই পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা জাহাজে ইসলামিক রেভলিউশনারী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হামলা চালাচ্ছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, সংঘাত চললে তেলের দাম খুব দ্রুত দ্বিগুণও হতে পারে।





