বিশ্বের মাত্র ৪০টি দেশ সব ধরনের নাগরিক স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এই হার মোট বৈশ্বিক জনসংখ্যার মাত্র ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে সতর্ক করা হয়েছে যে ‘বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র ও মানবাধিকার এমনভাবে আক্রান্ত হচ্ছে, যা আমরা গত কয়েক দশকে দেখিনি।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকার এমন হুমকির মুখে পড়েছে, যা গত কয়েক দশকে দেখা যায়নি।’

‘ওপেন’ বা ‘মুক্ত’ হিসেবে চিহ্নিত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রিয়া, এস্তোনিয়া, স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশ, নিউজিল্যান্ড ও জ্যামাইকা। এসব দেশের মোট জনসংখ্যা ২৮ কোটি ৪০ লাখ। এখানে মানুষ আইনি বা বাস্তব কোনো বাধা ছাড়াই সংগঠন গঠন, প্রতিবাদ, তথ্যপ্রাপ্তি ও প্রচার করতে পারেন।

অন্যদিকে ৪২টি দেশকে ‘বাধাগ্রস্ত’ শ্রেণিতে ফেলা হয়েছে, যার আওতায় পড়ে বৈশ্বিক জনসংখ্যার ১১ দশমিক ১ শতাংশ। এ তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, আর্জেন্টিনা ও স্লোভাকিয়ার মতো দেশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের প্রায় ৭০০ কোটি মানুষ বা ৮৫ শতাংশই এমন দেশে বসবাস করেন, যেখানে নাগরিক অধিকার সীমিত, অবদমিত কিংবা একেবারেই অনুপস্থিত। এ শ্রেণির ১১৫টি দেশের সরকার নাগরিক স্বাধীনতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, সমালোচকদের হয়রানি, গ্রেপ্তার বা হত্যা করে।

‘অবদমিত’ ক্যাটাগরিতে ৫১টি দেশ রয়েছে, যেখানে নাগরিক সমাজের ওপর নজরদারি করা হয়, সাংবাদিক ও বিরোধীদের দমন করা হয়। এর মধ্যে আছে আলজেরিয়া, মেক্সিকো ও তুরস্ক।

সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থানে রয়েছে ২৮টি দেশ, যেখানে নাগরিক অধিকার একেবারেই নেই। রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, ইরিত্র্রিয়া, সৌদি আরবসহ এসব দেশে ভিন্নমত প্রকাশ করলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হয়। এসব দেশকে প্রতিবেদনে “ভীতিকর পরিবেশ” বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি বিশ্বজুড়ে নাগরিক সমাজ নিয়ে কাজ করা সিভিকাস নেটওয়ার্কের তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭টি দেশ ও অঞ্চল বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে।

একইসঙ্গে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। গত এক বছরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় উন্নতি হয়েছে জ্যামাইকা, জাপান, স্লোভেনিয়া, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, বতসোয়ানা, ফিজি, লাইবেরিয়া, পোল্যান্ড ও বাংলাদেশে।

তবে একই সময়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হ্রাস পেয়েছে জর্জিয়া, বুরকিনা ফাসো, কেনিয়া, পেরু, ইথিওপিয়া, ইসোয়াতিনি, নেদারল্যান্ডস, মঙ্গোলিয়া ও ফিলিস্তিনে।

ব্রোট ফ্যুয়ার ডি ভেল্টের সভাপতি ডাগমার প্রুইন বলেন, “আইনের শাসন, ক্ষমতার বিভাজন ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়। বহু দেশে এসব মৌলিক বিষয় এখন হুমকির মুখে পড়েছে বা একেবারেই নেই।”

প্রতিবেদনটি বিশ্বজুড়ে নাগরিক অধিকার সংকট মোকাবেলায় জরুরি আন্তর্জাতিক মনোযোগ ও পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।