জয়পুরহাট প্রতিনিধি:কালাই–ক্ষেতলাল–আক্কেলপুর আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কমিটির চেয়ারম্যান ও সিনিয়র সিভিল জজ মো. ফয়সাল আহমেদের স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়—নির্বাচনের সময়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে খাবারের আয়োজন করা হয়েছে, যা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৩(ক) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের শামিল।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিলুর রহমানের মিনিগাড়ী বাড়ির উঠানে একযোগে তিনটি বড় পাতিলে খিচুড়ি রান্না করা হচ্ছিল এবং আরও দুটি পাতিলে রান্নার প্রস্তুতি চলছিল। কমিটির লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে রান্নার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সেখান থেকে পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে কমিটি জানতে পারে, বিএনপির প্রার্থী মো. আব্দুল বারীর একটি নির্বাচনী পথসভা উপলক্ষে অংশগ্রহণকারীদের আপ্যায়নের জন্য এ খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল।
ঘটনাস্থল থেকে রান্না করা খিচুড়ি, অব্যবহৃত চাল, ডাল, তেল ও বিভিন্ন মসলা জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দকৃত খিচুড়ি ও উপকরণ বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয় বলেও নোটিশে উল্লেখ রয়েছে।
নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির মতে, নির্বাচনী সময়ে এ ধরনের খাবারের আয়োজন ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা হিসেবে গণ্য হতে পারে।
এ ঘটনায় বিএনপির প্রার্থী মো. আব্দুল বারীকে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টায় জয়পুরহাটে কমিটির কার্যালয়ে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে হাজির না হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।
শোকজ নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে মো. আব্দুল বারী বলেন,
“পথসভা কিংবা খিচুড়ি রান্নার বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। কেউ হয়তো আমাকে বিতর্কিত করার জন্য এমন আয়োজন করেছে।”





