চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর প্রেস ক্লাব দখল করে ফ্যাসিস্ট মুক্ত করার ঘোষণা দিলো বিএনপি শিরোনামে চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রকাশিত দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকায় যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে সেটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেছেন উপজেলা বিএনপির নেতারা।
শুক্রবার চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তারা।
উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রেস ক্লাব নিয়ে বিএনপিকে জড়িয়ে মাথাভাঙ্গা পত্রিকায় যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। স্থানীয় যে প্রতিনিধি সংবাদটি তৈরি করেছেন তিনি বিএনপি'র মান ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে করেছেন। এক কথায় তিনি হলুদ সাংবাদিকতা করেছেন।
তিনি বলেন, জীবননগর প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন হয়েছে গত ১৬ জুন। আর সেই আহ্বায়ক কমিটি গত ১৮ জুন পরিচিতি ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। সেখানে আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমরা সেখানে গিয়ে এই প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের বিগত দিনের নানা অনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে সমালোচনা করি। অথচ পত্রিকার প্রতিনিধি লিখেছেন বিএনপি নাকি প্রেস ক্লাব দখল করে ফ্যাসিস্ট মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, এর আগেও বহুবার বিএনপিকে নিয়ে নানা নেতিবাচক সংবাদ প্রচার করেছেন এই পত্রিকার প্রতিবেদক। এমন সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
জীবননগর পৌর বিএনপির সভাপতি শাজাহান কবীর বলেন, উপজেলা বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের সকল ইউনিটসহ বেশ কয়েকটি রাজিনৈতিক দলের নেতা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা কর্মীরা
প্রেস ক্লাবের নব গঠিত আহ্বায়ক কমিটির পরিচিত সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নেয়। আর মাথাভাঙ্গা পত্রিকায় সংবাদ হলো জীবননগর প্রেস ক্লাব দখল করে ফ্যাসিস্ট মুক্ত করার ঘোষণা দিলো বিএনপি। এটা একটা হলুদ সাংবাদিকতা বলে আমি মনে করি। এরকম সংবাদের জন্য নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো ভাষা নেই।
উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির আহমেদ শামীম বলেন, মাথাভাঙ্গা পত্রিকার ওই প্রতিবেদক ফ্যাসিস্ট সরকারের সর্ব্বোচ্চ সুবিধাভোগী ব্যক্তি। বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনকে জড়িয়ে বিভিন্ন সময় নেতিবাচক সংবাদ প্রচার করে আসছে। এই ধরনের সাংবাদিক দেশ ও জাতীর জন্য হুমকি স্বরুপ। অপসাংবাদিকতা রোধে এদের বয়কট করা প্রয়োজন।
উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচীব মকছেদুর রহমান রিমন বলেন, জীবননগর প্রেসক্লাব নিয়ে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনকে জড়িয়ে পত্রিকায় যে সংবাদ ছাপা হয়েছে এটা কোন ধরনের সাংবাদিকতা এটা আমার জানা নেই। সংবাদটি প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো ইথিক্স মানা হয়েছে বলে আমার মনে হয়না। এটা আন ইথিক্যাল জার্নালিজম। এই ধরনের সাংবাদিকদের রুখে দেয়ার জন্য প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটির কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জুন মাথাভাঙ্গা পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে- জীবননগর প্রেসক্লাবের নির্বাচিত কমিটিকে পাশ কাটিয়ে আহ্বায়ক কমিটির গঠন ও আত্মপ্রকাশের নামে দখল করা হয়েছে প্রেসক্লাব ভবন। আর কাজে অংশ নেয় বহিরাগত কথিত সাংবাদিক ও স্থানীয় বিএনপি ও তার অংগ সহযোগী সংগঠনের নেতা- কর্মিরা। গত বুধবার অর্থাৎ ১৮ জুন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রেসক্লাব ভবনের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে নতুন কমিটির আত্মপ্রকাশে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জীবননগর প্রেসক্লাবের নির্বাচিত কমিটিকে পাশ কাটিয়ে একটি মহল প্রেসক্লাব দখল করে ফ্যাসিষ্ট মুক্ত করার ঘোষনা দেয়। ৫ আগষ্টের পর থেকে কমিটির সদস্যদের উৎখাত করার ঘোষনা দেয় বহিরাগত কথিত সাংবাদিক ও তাদের সমর্থনকারীরা। নিজেদের বিএনপি দাবি করা ওই বহিরাগতদের যোগ দেয়া দুই থেকে তিনজন প্রেসক্লাবের নতুন সদস্য। তারা বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের দারস্থ হয়ে দখল দারিত্বের খেলায় মেতে ওঠেন। প্রেসক্লাবের সদস্যদের সমর্থন হারিয়ে যড়যন্ত্রের মাধ্যমে বুধবার প্রেসক্লাব দখলের খেলায় মেতে ওঠেন।





