বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পদটি শূন্য হয়েছে। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তারেক রহমানই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিএনপির পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি দলটি।


দলীয় সূত্র জানায়, চলমান দাপ্তরিক কার্যক্রমে এখনো ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ পদবিই ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও গঠনতন্ত্র অনুসারে তারেক রহমানই বর্তমানে দলের চেয়ারম্যান, এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে কবে ঘোষণা করা হবে তা দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। ধারণা করা হচ্ছে, পরবর্তী স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর এ নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে।


নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, সাংবিধানিকভাবে বিষয়টি স্পষ্ট হলেও কৌশলগত কারণে এখনই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের ভাষ্য, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের পর দলীয় কর্মসূচি অনুযায়ী বর্তমানে সাত দিনের শোক পালন চলছে। এ পরিস্থিতিতে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি আলোচনার পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার সম্ভাবনাই বেশি।


দলীয় ইতিহাস অনুযায়ী, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর নেতৃত্বের দায়িত্ব নেন তাঁর সহধর্মিণী খালেদা জিয়া। রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন এবং তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে। গত ৩০ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমে দলটির সেই পদটি শূন্য হয়।


বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৮(গ) ধারার ৩ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, কোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। সে অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। একই ধারার ভিত্তিতেই খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর তিনি এখন দলের চেয়ারম্যান।


এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শুধু বিএনপি নয়, পুরো দেশই গভীর শোকে রয়েছে। তাঁর ছেলে তারেক রহমানও ব্যক্তিগতভাবে শোকাহত। এই সময়ে পদ-পদবি নিয়ে কোনো তাড়াহুড়া নেই। তবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমানই বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যান।