ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনি মাঠে সক্রিয়ভাবে নামতে প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। দলটির হাইকমান্ড ইতোমধ্যে ‘ক্লিন ইমেজ’ ও জনপ্রিয়তায় এগিয়ে থাকা শতাধিক নেতাকে নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু করার জন্য গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরাসরি ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় মাঠে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য বিএনপি গোপনে তিনটি স্তরে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চালিয়েছে। তারেক রহমানের নির্দেশনায় গঠিত তিনটি পৃথক টিম দেশের ৩০০ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের কার্যক্রম, জনপ্রিয়তা, দলের প্রতি অবদান এবং জনসম্পৃক্ততা মূল্যায়ন করেছে।
২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে যারা মনোনয়ন পেয়েছিলেন কিংবা মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন, তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে গোপনে জরিপ চালিয়েছে একাধিক সংস্থা। এছাড়াও যাঁদের এলাকা ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে, যাঁরা শিক্ষিত, উদ্যমী, ত্যাগী এবং তরুণ ভোটারদের মাঝে গ্রহণযোগ্য, এমন নেতাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
দলের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, এবারের মনোনয়নে তিনটি মূল যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে:গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে যিনি দলের পক্ষে সাহসিকতা ও ত্যাগের নজির রেখেছেন।যিনি সততার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং স্থানীয়ভাবে ‘ভালো মানুষ’ হিসেবে পরিচিত।যিনি নিজ এলাকায় ভোটের রাজনীতিতে জনপ্রিয়।এই তিনটি মানদণ্ড বিবেচনায় নিয়েই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
দলের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এবারের মনোনয়নে নবীন ও প্রবীণের সমন্বয় ঘটিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্রার্থী তালিকা তৈরি করা হবে। এছাড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবার থেকেও একাধিক সদস্য নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।
এছাড়া সমমনা রাজনৈতিক জোটের অংশীদারদের জন্য কিছু আসন ছেড়ে দেওয়ার বিষয়েও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, রাজধানী ঢাকার বেশ কয়েকটি আসনেও সমমনাদের ছাড় দেওয়ার কথা ভাবছে বিএনপি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সব সময়ই নির্বাচনমুখী। নির্বাচন কমিশন আগামীকালও নির্বাচন ঘোষণা করলে বিএনপি প্রস্তুত।”
অন্যদিকে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, এবার একক প্রার্থী নির্ধারণের নীতিতে অটল রয়েছে বিএনপি। ২০১৮ সালের মতো একাধিক প্রার্থীর মাঝে বিভ্রান্তিকর চিঠি দেওয়ার সুযোগ থাকছে না।
সূত্র মতে, ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়কাল ধরে এগোচ্ছে সরকার। এই প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমি তো দেখছি সরকার এ টার্গেটেই সামনে এগোচ্ছে।”
বিএনপির হোমওয়ার্ক প্রায় শেষ পর্যায়ে হলেও নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পরই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। তখন মনোনয়নপত্র বিতরণ, জমা, সাক্ষাৎকার ও প্রার্থী চূড়ান্তকরণের মতো মূলধারার কাজ করবে দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড।
দলটির নেতারা বলছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি শুধু প্রস্তুতই নয়, বরং জনসম্পৃক্ততা, নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা ও রাজনৈতিক দায়িত্ববোধ—এই তিনের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী প্রার্থী তালিকা উপহার দিতে যাচ্ছে।





