আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দলের লক্ষ্য, ভোটারদের নির্বাচনমুখী করা এবং নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ ধরনের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠকে বলা হয়, বিএনপি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে শুধু মাঠে সীমাবদ্ধ রাখবে না, বরং মানুষের ঘরে ঘরে ‘ডোর টু ডোর’ কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে সচেতন করা, গণমাধ্যম ও রাজপথে পারস্পরিক সচেতনতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

বৈঠকে দলের নেতারা প্রাথমিকভাবে নির্বাচনে প্রতিটি আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতিমধ্যে গণসংযোগ চালাচ্ছেন, তবে কেন্দ্র থেকে তাদের শান্তিপূর্ণ প্রচার এবং দলের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব বা গ্রুপিং না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

বৈঠকে জনগণের পাশে থেকে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয় সম্ভাব্য প্রার্থীদের। দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৫ আগস্টের পর কিছু নেতাকর্মীর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিএনপি আশা করছে, এ ধরনের ব্যবস্থা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শৃঙ্খলা এবং দৃশ্যমান প্রভাব তৈরি করবে।

বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ এবং নির্বাচনের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সংস্কার বিষয়েও আলোচনা হয়। দল মনে করে, সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন সংস্কার প্রস্তাব নির্বাচন আগে বাস্তবায়নযোগ্য এবং তা নির্বাহী আদেশ বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে করা যেতে পারে।

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ, দলের প্রস্তুতি এবং রাজনৈতিক সচেতনতা নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ে তাদের মূল লক্ষ্য। দল নির্বাচনী কর্মসূচি এবং রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের প্রচারণা একসঙ্গে চালিয়ে যাবে।