ভোজ্যতেল পরিশোধন ও বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও এর আগেই বাজারে বেড়েছে খোলা সয়াবিন ও সুপার পাম অয়েলের দাম। গত তিন-চার দিনের ব্যবধানে এই দুই ধরনের তেলের দাম প্রতি লিটারে গড়ে ৫ টাকা করে বেড়েছে।


বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল লিটারে বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৭২ টাকা দরে, যেখানে চার দিন আগেও এটি ছিল ১৬৯ টাকা। একইভাবে, সুপার পাম অয়েল লিটারে বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা, যা আগে ছিল ১৫০ টাকা।


এর আগে ভোজ্যতেল আমদানি ও বিপণনকারীদের সংগঠন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে প্রতি লিটারে ১০ টাকা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। সেই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত সোমবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রতিলিটার এক টাকা দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানালেও এখন পর্যন্ত তা কার্যকর বা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু তার আগেই পাইকারি ও খুচরা বাজারে খোলা তেলের দাম বেড়ে গেছে।


খুচরা বিক্রেতাদের মতে, পাইকারি দামে বেড়ে যাওয়ায় খুচরাতেও এর প্রভাব পড়েছে। ছোট ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এক ড্রাম (২০৪ লিটার) খোলা সয়াবিন তেলের দাম ৩২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৩৪ হাজার ৪০০ টাকা হয়েছে। একইভাবে, সুপার পাম অয়েলের দাম ২৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৩১ হাজার টাকা হয়েছে প্রতি ড্রামে।


এদিকে বোতলজাত তেলের খুচরা দাম এখনো আগের মতো থাকলেও পাইকারি বাজারে এর দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। উল্লেখ্য, গত ৩ আগস্ট সরকারের নির্ধারিত দামে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৮৯ টাকা, পাঁচ লিটার ৯২২ টাকা, খোলা সয়াবিন ১৬৯ টাকা এবং পাম অয়েল ১৫০ টাকা নির্ধারিত ছিল।


এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর আবারও বাড়তি চাপ পড়েছে, যদিও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা আসেনি।