ঢাকা: রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের একটি বাসা থেকে গতকাল রাতে গ্রাফিক্স ডিজাইনার স্বর্ণময়ী বিশ্বাসের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি অনলাইন সংবাদমাধ্যম ঢাকা স্ট্রিম-এর গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তিনি সম্প্রতি সহকর্মী কবি ও সাংবাদিক আলতাফ শাহনেওয়াজ-এর বিরুদ্ধে লিখিতভাবে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন। সহকর্মীদের ধারণা, অভিযোগের বিচার না পেয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
স্বর্ণময়ী বিশ্বাসের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার ঘাটইরাতলা এলাকায়। ঢাকা-বাসায় তিনি তার বাবা সত্যজিৎ বিশ্বাস, মা রোমা রানি বিশ্বাস ও ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন।
এক বছর আগে ঢাকা স্ট্রিমে যোগদান করেন।
ঘটনার দিন বাসার ঘড়ের ভেতর থেকে লক করে ছিলেন। দীর্ঘ সময় দরজা বন্ধ থাকায় পরিবারের একজন দরজা খুলে চাবি দিয়ে ঢুকে দেখেন, তিনি বাসা ভেতর বাতি বন্ধ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছেন। উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শেরেবাংলা নগর থানার এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও মামলা না হলেও মরদেহ সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সুষ্ঠু তদন্তে জানানো হয়েছে, মৃতদেহে দুই হাতে ছুরি বা ব্লেড দিয়ে কাটা বেশ কয়েকটি দাগ এবং গলার কালো দাগ রয়েছে, যা গভীর তদন্তের দাবি তোলে।
যৌন হয়রানির অভিযোগ ও কাজের পরিবেশ
সহকর্মীরা জানান, স্বর্ণময়ী বিশ্বাস গত ১৩ জুলাই প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগে ‘লজিং কমপ্লেইন্ট এগেইন্সট ইনঅ্যাপ্রোপ্রিয়েট বিহেভিয়র ইন দ্য ওয়ার্কপ্লেস’ শিরোনামে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলেন। এতে আলতাফ শাহনেওয়াজের বিরুদ্ধে ৯ ধরনের অভিযোগ করা হয় যেমন– অনুচিত দেহভঙ্গি, অশোভন ভাষা, গভীর রাতে ফোন/মেসেজ হেনস্থা, কর্মচারীদের ওপর হয়রানি ও ভয় দেখানো ইত্যাদি।
অভিযোগপত্রে ২১ জন সহকর্মী স্বাক্ষর করেছিলেন। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও অভিযুক্তকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিয়ে পুনর্বহাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সহকর্মীরা বলছেন: “অভিযোগ করা হচ্ছে … কিন্তু তার পরেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা স্বর্ণময়ীকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে।”
সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও দাবী
এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। অনেকে দাবি করছেন— যথাযথ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার ছাড়া কর্মস্থলে নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা যাবে না।





