আসামের ধুবড়ি জেলায় সম্প্রতি উদ্ভূত সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ‘দুষ্কৃতকারীদের’ দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিশেষ করে রাতের বেলায়, যারা পাথর ছুঁড়বে বা অস্থিরতা সৃষ্টি করবে, তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে বলা হয়েছে।
\r\nধুবড়ির একটি হনুমান মন্দিরের কাছে পশুর দেহাবশেষ পাওয়া যাওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হয় এই উত্তেজনা। গত রোববারের ওই ঘটনার পর এলাকাজুড়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় জনতার সংঘর্ষে একাধিকজন আহত হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার পর্যন্ত ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
\r\nপরিস্থিতি পরিদর্শনে শুক্রবার ধুবড়ি সফরে যান মুখ্যমন্ত্রী। সফর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, গৌহাটি ফিরে দেখামাত্র গুলির লিখিত নির্দেশ দেবেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এটি একটি “বিদেশি চক্রান্ত”— ঈদের আগের দিন 'নবীন বাংলা' নামে একটি সংগঠন ধুবড়িকে বাংলাদেশের অংশ হিসেবে দাবি করে পোস্টার লাগিয়েছে।
\r\nবিশ্বশর্মা অভিযোগ করেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, পশ্চিমবঙ্গ থেকেও গবাদিপশু পাচার করে আসামে সাম্প্রদায়িক অশান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “বকরিদকে সামনে রেখে হাজার হাজার গরু ধুবড়িতে আনা হয়েছে। একটি গরু-মাফিয়া চক্র তৈরি হয়েছে, যারা এই সুযোগে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতে চাইছে।”
\r\nপরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ধুবড়িতে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) ও আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে, যাদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য পরোয়ানা রয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
\r\nমুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা কাউকে ধর্মীয় উসকানি ও বিশৃঙ্খলা ছড়াতে দেব না। আগামী বছর ঈদের দিন আমি নিজে ধুবড়িতে থাকব।”
\r\nএদিকে আসন্ন আসাম বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে এই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে দেখছে পর্যবেক্ষকরা। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো অভিযোগ করেছে, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় মেরুকরণ ঘটিয়ে নির্বাচনী ফায়দা তুলতে চাইছে। তাদের দাবি, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক কৌশল— যা শুরু হয়েছে প্রায় এক বছর আগেই।
\r\nএই ঘটনার ফলে ধুবড়িসহ আশপাশের এলাকায় চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।





