বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতে ‘নলেজ করিডর’ উদ্যোগের আওতায় ১০০ জন মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ প্রদান করা হয়েছে। কঠোর পরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন এবং বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ শুরু করেছেন।
এই স্কলারশিপ প্রদান করা হচ্ছে Allama Muhammad Iqbal Scholarship Program-এর অধীনে। ১৪ তারিখ শিক্ষার্থীরা করাচির Jinnah International Airport-এ পৌঁছালে Higher Education Commission এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।
হায়ার এডুকেশন কমিশন জানিয়েছে, মোট ৫টি ব্যাচে ধাপে ধাপে ১০০ জন করে সর্বমোট ৫০০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে এই বৃত্তি প্রদান করা হবে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ আসন এমবিবিএস (MBBS) কোর্সের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।
স্কলারশিপের আওতায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে মাসিক ২৫ হাজার রুপি সেল্ফ অ্যালাউন্স, ১৫ হাজার রুপি হোস্টেল ফি, এককালীন ৪৫ হাজার রুপি সেটেলমেন্ট অ্যালাউন্স এবং রাউন্ড এয়ার টিকিট প্রদান করা হচ্ছে।
এই কর্মসূচির আওতায় পাকিস্তানের সেরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শিক্ষার্থীরা মেডিকেল সায়েন্স, হেলথ সায়েন্স, মেডিসিন, ফার্মেসি এবং প্রকৌশল-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন।
স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী মো. আখলাক খান তিতাস, যিনি Dow University of Health Sciences-এ ডক্টর অব ফার্মাসি (Pharm-D) প্রোগ্রামে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছেন, তিনি বলেন,
“পাকিস্তানে এসে আমি সত্যিই আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। এখানে সবাই আমাদের যেভাবে আন্তরিকতা ও উষ্ণতার সঙ্গে গ্রহণ করেছেন, তা আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। তাদের আপ্যায়ন ছিল সত্যিই প্রশংসনীয় ও স্মরণীয়। এক মুহূর্তের জন্যও মনে হয়নি যে আমি নিজের দেশ থেকে দূরে আছি—সবকিছু এত আপন ও পরিচিত লেগেছে। আলহামদুলিল্লাহ, এখন পর্যন্ত সবকিছুই ভালোভাবে চলছে। আশা করি ভবিষ্যতেও আমি তাদেরকে পাশে পাব এবং অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত রাখতে পারব। বাংলাদেশ–পাকিস্তান নলেজ করিডর উদ্যোগ আমাদের জন্য একটি বড় সুযোগ। আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে।