নেপালে গণঅভ্যুত্থান ও সরকারের পতনের পর তরুণ নেতারা এবার ভোটের মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জেনারেশন-জেড (জেন-জি) আন্দোলনের মুখ সুদান গুরুং ঘোষণা করেছেন, তিনি আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন এবং কেপি শর্মা অলির নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভের পর কেপি অলি সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন সাবেক বিচারপতি সুশীলা কার্কি। ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী বছরের মার্চে দেশের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রেক্ষাপটে গুরুং দলীয় বা জোটগত ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ক্ষমতাচ্যুতদের দ্রুত বিচার ও নির্বাচন থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন।
এক সাক্ষাৎকারে গুরুং বলেন, তার দল কেবল একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলের বিকল্প হবে না, বরং এটি হবে ‘পরিবর্তনের আন্দোলন’। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমর্থকদের একত্র করে তারা জাতীয় আন্দোলন গড়ে তুলবেন এবং ভোটের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য চূড়ান্ত লড়াই করবেন।
তিনি সাবেক সরকারের বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্যও করেছেন। তাদের ‘স্বার্থপর ও দুর্নীতিগ্রস্ত’ আখ্যা দিয়ে গুরুং বলেন, “তারা আমাদের রাজনীতিকে টেনে এনেছে। যদি তারা রাজনীতি চায়, তাহলে সেই রাজনীতি-ই পাবেন। আমরা পরবর্তী নির্বাচনে লড়ব এবং পিছু হটব না।”
৩৬ বছর বয়সী গুরুং জেন-জির নেতৃত্বে তৃণমূল পর্যায়ের বিদ্রোহের মুখ হিসেবে দ্রুত খ্যাতি অর্জন করেছেন। সামাজিক মাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভের পর মাত্র দু’দিনে অলি সরকার পতিত হয়।
নেতৃত্ব ও সংগঠন নিয়ে গুরুং আশা প্রকাশ করেছেন, তারা Discord, Instagram ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সারা দেশ থেকে নীতিগত দাবি সংগ্রহ করছেন এবং স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে আইন ও যোগাযোগ কমিটি গঠন করছেন। তিনি মনে করেন, এই প্রস্তুতি তাদের ‘শাসনের জন্য প্রস্তুত’ করবে এবং প্রতিটি নাগরিকের কণ্ঠস্বরের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করবে।
গুরুং জানিয়েছেন, তিনি একক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নয়, দল বা জোট হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তিনি বলেন, “যদি আমি একাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হই, তাহলে তরুণ শক্তি ক্ষুণ্ণ হবে। একসাথে আমরা আরও শক্তিশালী।”
নিজের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে গুরুং বলেছেন, তিনি এখনই নিজেকে ‘সঠিক ব্যক্তি’ দাবি করছেন না, তবে জনগণ তাকে নির্বাচিত করলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তিনি বলেন, “আমাকে চুপ করানোর চেষ্টা হয়েছে, ভয় দেখানো হয়েছে, তবু আমি ভীত নই। আমাকে হত্যা করলেও আমার আন্দোলন থামবে না। আমার সম্প্রদায়কে বাঁচাতে হবে—এখনই, নাহলে কখনই না।”
জেন-জির উত্থান এবং গুরুংয়ের অংশগ্রহণ নেপালের নির্বাচনী প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক চর্চা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের দৃশ্যপট পরিবর্তন করতে পারে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে এই তরুণ নেতৃত্ব কতটা জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারবে এবং ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলের সমর্থন পাবে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন।





