ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে বলেছেন, ফ্রান্সের মতোই বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোর পরিস্থিতিও জটিল। তবে উন্নয়ন ও শান্তি নিশ্চিত করতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার কোনো বিকল্প নেই।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বাংলাদেশ ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে গ্লোবাল স্টাডিজ অ্যান্ড গভর্নেন্স এবং মারানা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ‘বে অব বেঙ্গল স্টাডিজ’-এর ধারাবাহিক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের মানবিক সহায়তার প্রায় ৯৫ শতাংশ বন্ধ করে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ভারতের অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের কিছু মন্তব্য উদ্বেগজনক ছিল। কোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর অন্য দেশের আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব থাকা সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণকে তিনি আতঙ্কজনক বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ফ্রান্স তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করবে না বলেও দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত জানান, ফ্রান্স এ অঞ্চলে একটি ইন্দো-প্যাসিফিক জোট গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। কারণ এই অঞ্চলে বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ বসবাস করে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ এখানেই পরিচালিত হয়। আন্তর্জাতিক আইন মেনে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতেই এ জোট কাজ করবে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের আঞ্চলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া তিনি জানান, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রান্সের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বাড়াতে আগ্রহী তার দেশ। এতে দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও বোঝাপড়া আরও গভীর হবে।
শিক্ষার্থীদের সহায়তায় আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের মাধ্যমে একটি ফ্রান্স এজেন্সি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ফ্রান্সের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার জন্য ফরাসি ভাষা জানা বাধ্যতামূলক নয়, কারণ সেখানে ইংরেজি মাধ্যমেও বহু কোর্স চালু রয়েছে।