রাজশাহী প্রতিনিধি: খেরওয়াল বিদ্রোহের নেতা ও ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামী তিলকা মাঝি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (তারিখ উল্লেখ করা যেতে পারে) দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সাঁওতাল অধ্যুষিত বর্ষাপাড়া রক্ষাগোলা গ্রাম সমাজ সংগঠনে দিনব্যাপী এই দিবস পালন করা হয়। রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির আয়োজনে এবং সিসিবিভিও, রাজশাহী ও ব্রেড ফর দি ওয়ার্ল্ড, জার্মানির সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে তিলকা মাঝি ও খেরওয়াল বিদ্রোহের শহীদসহ নৃতাত্ত্বিক অধিকার আদায়ের সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নিরবতা পালন করা হয়। পরে আলোচনা সভার মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
বর্ষাপাড়া রক্ষাগোলা গ্রাম সমাজ সংগঠনের মাঞ্জি হাড়াম রাজেন টুডুর সভাপতিত্বে এবং সিসিবিভিও’র কর্মসূচি কর্মকর্তা যোশেফ রামদাস হাঁসদার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিসিবিভিও’র সভাপতি প্রফেসর মোহাম্মদ আবদুস সালাম, সিসিবিভিও’র নির্বাহী প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা সারওয়ার-ই-কামাল স্বপন, প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার আবুল কালাম আজাদ এবং সিসিবিভিও সমন্বয়কারী আরিফ ইথার।
আলোচনায় সভাপতির প্রারম্ভিক বক্তব্যের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে সিসিবিভিও’র উর্ধ্বতন কর্মসূচি কর্মকর্তা সৌমিক ডুমরী তিলকা মাঝি দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরেন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির নেতা রঘুনাথ পাহাড়িয়া ও বাপ্পী মার্ডী।
বক্তারা বলেন, অবিভক্ত ভারতবর্ষে ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে তিলকা মাঝি ছিলেন প্রথম শহীদ। নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তিলকা মাঝির আদর্শ ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তারা সবাইকে আহ্বান জানান।
তিলকা মাঝি, যিনি তিলকা মুরমু নামেও পরিচিত, ১৭৮১-৮৪ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে সংঘটিত খেরওয়াল বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। জমি লুঠ ও জোরপূর্বক খাজনা আদায়ের বিরুদ্ধে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর ক্ষোভকে তিনি গণবিদ্রোহে রূপ দেন। ১৭৭৮ সালে ১৩০০ জন সাঁওতাল বিদ্রোহী নিয়ে তিনি কোম্পানির রামগড় ব্যাটালিয়ন দখল করেন এবং লুট করা অর্থ জনগণের মাঝে বিতরণ করেন।
১৭৮৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ভাগলপুরে নির্মমভাবে ফাঁসি দিয়ে তিলকা মাঝিকে হত্যা করা হয়। ইতিহাসে তিনি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ হিসেবে স্বীকৃত। তার স্মরণে ভাগলপুর ও দুমকায় ভাস্কর্য স্থাপন এবং ভাগলপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয়েছে ‘তিলকা মাঝি ভাগলপুর বিশ্ববিদ্যালয়’।
অনুষ্ঠানে সিসিবিভিও’র পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কর্মসূচি সমন্বয়কারী মো. শাহাবুদ্দিন, কর্মসূচি কর্মকর্তা পৌল টুডু, রুমা লাভলী মুর্মু এবং সমাজ সংগঠক মানিক এক্কা, দীপিকা মান্ড্রী, রুমিলা হেম্ব্রম, সুচিত্রা হেম্ব্রম, কাথারিনা হাঁসদা, ইমরুল সাদাত ও ভবেশ লাকড়া।
সভাপতি তার সমাপনী বক্তব্যে নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে দিবস পালন কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।





