দক্ষিণ সুদানে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলায় ছয়জন নিহত ও আটজন আহত হওয়ার ঘটনায় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শান্তিরক্ষীদের লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।


\r\n

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে গুতেরেস বলেন, “সুদানে জাতিসংঘের লজিস্টিক ঘাঁটিতে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। এ ধরনের হামলা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং যুদ্ধাপরাধের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।”


\r\n

তিনি আরও বলেন, “জাতিসংঘের কর্মী ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। এই ঘটনায় অবশ্যই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।”


\r\n

গুতেরেস নিহত শান্তিরক্ষীদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।


\r\n

এর আগে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শনিবারের হামলাকে ‘আন্তর্জাতিক শান্তি ও মানবতার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ’ বলে নিন্দা জানান। এক বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ সুদানের আবিয়েই অঞ্চলে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন।


\r\n

ড. ইউনূস আহতদের সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘকে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

\r\n

এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটে যখন সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

\r\n

সুদানের সেনাবাহিনী হামলার জন্য আরএসএফকে দায়ী করে বলেছে, “এই ঘটনা বিদ্রোহী মিলিশিয়া এবং তাদের পেছনের শক্তির ধ্বংসাত্মক মানসিকতাই স্পষ্ট করে।” তবে এ বিষয়ে আরএসএফের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

\r\n

২০১১ সালে জাতিসংঘ অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা বাহিনী ফর আবেই মোতায়েন করা হয়। তেলসমৃদ্ধ আবিয়েই প্রশাসনিক এলাকা সুদান ও প্রতিবেশী দক্ষিণ সুদানের যৌথ প্রশাসনের মধ্যে রয়েছে। উভয় দেশই এ অঞ্চলের ওপর দাবি করে আসছে এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানে সংঘাত চলছে। গত মাসেই এই শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ নবায়ন করা হয়।