বরগুনায় শীত শুরুর আগেই ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা-সংকট মারাত্মক অবস্থায় পৌঁছেছে। ৫০ শয্যার ওয়ার্ডে প্রতিদিন দেড় শতাধিক শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। বেড না পেয়ে অনেক রোগী মেঝেতে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

হাসপাতালের হিসাবে, শুধু নভেম্বর মাসেই বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে ৮০০–র বেশি শিশু এবং ভর্তি হয়েছে ৪০০–র বেশি। বেশিরভাগ শিশু ঠান্ডা, জ্বর ও কাশির লক্ষণ নিয়ে এলে পরে তাদের নিউমোনিয়া শনাক্ত হচ্ছে। পাশাপাশি ডায়রিয়াতেও আক্রান্ত হচ্ছে অনেক শিশু।

অভিভাবকদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা মিললেও জরুরি ওষুধ ও বেশ কিছু পরীক্ষা বাইরে থেকে করতে হচ্ছে, যা বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। কেউ কেউ বলেন, একটি নেবুলাইজার মেশিন দিয়ে একসঙ্গে বহু রোগীকে সেবা দেওয়া হচ্ছে, ফলে সময়মতো চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

পাথরঘাটার হাওয়া আক্তার বলেন, “সাত দিন ধরে সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে আছি। প্রয়োজনীয় ওষুধগুলো বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।” একই অভিজ্ঞতার কথা জানান সেবাপ্রত্যাশী আব্দুল আলীম ও রহিমা বেগম। তারা জানান, বেড না পেয়ে ঠান্ডা মেঝেতে রাত কাটাতে হচ্ছে।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মেহেদী পারভেজ জানান, ঠান্ডাজনিত সংক্রমণ বাড়ায় শিশুদের জটিলতা দ্রুত বাড়ছে। তিনি অভিভাবকদের সচেতন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলম বলেন, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি দূর করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় মজুত দ্রুত শেষ হয়ে গেছে বলে তিনি জানান।