বগুড়া জেলা প্রতিনিধি: বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপির পদ-পদবীধারী নেতাকর্মীদের নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

মঙ্গলবার বগুড়া জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বগুড়া-৬ আসনে জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য এডভোকেট মো. আল-আমিন।

অভিযোগে বলা হয়, বগুড়া-৬ আসনের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে যেসব প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাদের অধিকাংশই ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক। এমনকি বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের পদ-পদবীতে থাকা একাধিক ব্যক্তিকেও নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

লিখিত অভিযোগে নির্দিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে নূনগোলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত শামীমা আক্তার জেলা বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া বাঘোপাড়া শহীদ দানেশ উদ্দিন স্কুল ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, যিনি সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন, তিনি জিয়া পরিষদ বগুড়া জেলা শাখার সেক্রেটারি। একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বগুড়া সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং মো. শওকত হোসেন বকুল ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব ব্যক্তি নির্বাচনী দায়িত্বে থাকলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর ফলাফলে দলীয় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে বগুড়া-৬ আসনে জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব সেলিম রেজা বলেন, “আমরা অভিযোগে গুটিকয়েক নাম উল্লেখ করেছি। বাস্তবে এই আসনের অধিকাংশ নির্বাচনী কর্মকর্তা বিএনপির নেতা, কর্মী ও সমর্থক। দলবাজ এসব ব্যক্তির মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।”

তিনি আরও জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং আশা প্রকাশ করেন—দলীয় পরিচয়সম্পন্ন কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দিয়ে নতুন করে নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া হবে।