দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুত পাইলট প্রকল্প শুরু করতে চান। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলোর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ছিল অন্যতম। সরকার গঠনের পরই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দ্বিতীয় দিনেই একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারকে প্রতি মাসে ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা বা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে। প্রতিটি পরিবারে একটি করে কার্ড ইস্যু করা হবে।

সুবিধাভোগী নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে সরেজমিন যাচাই-বাছাই করা হবে। পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত—এই চার শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের অনেকে এই সুবিধা নাও নিতে পারেন।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে কমিটির বৈঠক হয়। শুরুতে দুই উপজেলায় পাইলট প্রকল্প চালুর চিন্তা থাকলেও পরে তা বাড়িয়ে দেশের ১৩টি উপজেলার ১৩টি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী ১০ মার্চ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, দল-মত নির্বিশেষে যোগ্য পরিবারগুলো ফ্যামিলি কার্ড পাবে। পরিবারপ্রধান হিসেবে ‘মা’-কে কার্ড দেওয়া হবে। তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যা ১৮ কোটি হলে আনুমানিক সাড়ে চার কোটি পরিবার রয়েছে। তবে সব পরিবার এই সুবিধা নেবে না। মূলত হতদরিদ্র ও দরিদ্র—এই দুই শ্রেণিকেই সর্বজনীনভাবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ঈদের আগেই কার্ড বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ১৫ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কমিটিকে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন দিতে হবে।

কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের উপযুক্ত নকশা প্রণয়ন, সুবিধাভোগী নির্বাচনের পদ্ধতি নির্ধারণ এবং একটি ডিজিটাল এমআইএস তৈরির সুপারিশ করতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র ও ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডেটাবেজের তথ্য সমন্বয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে। পাশাপাশি নারীদের জন্য বিদ্যমান কোনো কর্মসূচিকে এ কার্ডের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হবে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে এবং প্রয়োজন হলে নতুন সদস্য যুক্ত করা যাবে।