অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন হবে একটি \"ভিত্তি স্থাপনকারী নির্বাচন\", যা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের নতুন যুগের সূচনা করবে। তিনি জানান, দেশ বর্তমানে একটি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে রয়েছে, এবং নির্বাচনই হবে সেই রূপান্তরের ভিত্তি।
এই বক্তব্য তিনি দেন মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর), যখন প্যারিসের মেয়র আনে হিদালগো নিউইয়র্কে একটি হোটেলে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকালে দুই নেতা বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন, অন্তর্বর্তী সরকারের চলমান সংস্কার কার্যক্রম, খেলাধুলা ও অলিম্পিকে সামাজিক ব্যবসার গুরুত্ব, এবং বৈশ্বিক শরণার্থী সংকট—বিশেষ করে রোহিঙ্গা সমস্যা—নিয়ে আলোচনা করেন।
অধ্যাপক ইউনূস জানান, তিনি প্যারিস ২০২৪ অলিম্পিককে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক ব্যবসা প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের জন্য কাজ করছেন। এছাড়া তিনি ভবিষ্যতের সব অলিম্পিক গেমসকে, বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিককে, কার্বন-নিউট্রাল করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
মেয়র হিদালগো এই সময় অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, “আমি আপনার নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখি। আপনি অসাধারণ কাজ করে চলেছেন।”
দুই নেতা বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক দিক নিয়ে। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থানরত প্রায় এক মিলিয়ন রোহিঙ্গার সহায়তায় আন্তর্জাতিক তহবিল বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তারা। মেয়র হিদালগো আশা প্রকাশ করেন, একদিন রোহিঙ্গারা নিরাপদ ও সম্মানজনকভাবে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারবে।
অধ্যাপক ইউনূস জানান, আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে, যেখানে রোহিঙ্গা সংকট পুনরায় বিশ্বদৃষ্টিতে আনা হবে।
সাক্ষাৎশেষে তিনি মেয়র হিদালগোকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক ও সরকারের সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ।





