দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বাজেট খরচ পর্যালোচনা করতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকটি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় হয়। এতে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর উপস্থিত ছিলেন।


বৈঠকে দেশের অর্থনীতির সাম্প্রতিক সূচকগুলো পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনায় মূল্যস্ফীতি, মজুরি প্রবৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, চলতি হিসাব, প্রবাস আয়, আমদানি এবং শিল্পখাতে ঋণপত্র খোলার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।


বৈঠকে জানানো হয়, ১২ মাসের গড় হিসাবে দেশের মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় পর ২০২৫ সালের নভেম্বরে ৯ শতাংশের নিচে নেমেছে। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৮.২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা জুন ২০২৫-এর পর থেকে ধারাবাহিকভাবে কমছে। সরকারের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি এবং কৃচ্ছ সাধনের ফলে ২০২৬ সালের জুনে এটি ৭ শতাংশের নিচে নামার সম্ভাবনা রয়েছে।


মজুরি প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। নভেম্বরে মজুরি বৃদ্ধি ৮.০৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা মূলত আগের বছরের উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বাস্তব আয়ের ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


কৃষি খাতে বৈঠকে জানানো হয়, যথাযথ প্রণোদনা এবং ব্যবস্থাপনার ফলে বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় চলতি মৌসুমে আমন ধানের ফলনও সন্তোষজনক হওয়ার আশা করা হচ্ছে। ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমন ধানের উৎপাদন ১৬০.৯৫ লাখ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। আউশ ধানের উৎপাদন আগের অর্থবছরের তুলনায় ৭.২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।


অর্থনৈতিক সূচকে ভারসাম্যহীনতা অনেকটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। বৈদেশিক খাতের অগ্রগতি তুলে ধরে বলা হয়, ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২.৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের আগস্টে ছিল প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। বিনিময় হার স্থিতিশীল হওয়া, প্রবাস আয় বৃদ্ধি এবং সুদের হার বৃদ্ধির ফলে রিজার্ভ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।


চলতি হিসাবের ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে ঘাটতি মাত্র ১৩৯ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে, জুলাই-অক্টোবর সময়ে ঘাটতি ছিল ৭৪৯ মিলিয়ন ডলার। প্রবাস আয়েও ইতিবাচক বৃদ্ধি দেখা গেছে; জুলাই-নভেম্বর সময়ে ৫ লাখ কর্মী বৈদেশিক নিয়োগ পেয়েছেন, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ লাখ ৯৭ হাজার। প্রবাস আয় এসেছে ১৩.০৪ বিলিয়ন ডলার, আগের বছরের তুলনায় ১৭.১৪ শতাংশ বেশি।


আমদানি খাতে উৎপাদনমুখী উদ্যোগ বাড়াতে কিছু বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলস্বরূপ জুলাই-নভেম্বর সময়ে আমদানি প্রবৃদ্ধি ৬.১ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের অর্থবছরে ঋণাত্মক ছিল। শিল্পখাতে ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে, যা মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে সাহায্য করছে এবং অর্থনীতিতে আস্থা ফিরতে শুরু করছে।


\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n

বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা উল্লেখ করেন, আর্থিক শৃঙ্খলা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার কারণে দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ক্রমশ ফিরে আসছে।