সরকার নতুন পে-স্কেল দিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “সেটা পরে এক সময় আমি দেখব। যাওয়ার আগে এক সময় বলব।”
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
দারিদ্র্য পরিমাপের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “পাঁচ হাজার লোককে টেলিফোনে সাক্ষাৎকার নিয়ে বলা হয়, দারিদ্র্য বেড়েছে—এগুলো আমি জানি। কেউ বলেছে, আমি যদি একটা পেপার লিখি, একটা ফার্ম ২০ হাজার মানুষের জবাব দিয়ে দেবে কালকের মধ্যেই। তবে হ্যাঁ, দারিদ্র্য আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ, সেটা স্বীকার করি।”
তিনি বলেন, “অমর্ত্য সেন একবার বলেছিলেন, কঠিনভাবে দারিদ্র্য পরিমাপ করার দরকার নেই, দরিদ্র মানুষকে দেখলেই বোঝা যায়—তার চেহারা, আচরণেই প্রকাশ পায়।”
সম্প্রতি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পিপিআরসি (Power and Participation Research Centre) প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, দেশে দারিদ্র্যের হার এখন প্রায় ২৮ শতাংশ। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ২০২২ সালে এ হার ছিল ১৮.৭ শতাংশ।
অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বলে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “অর্থনৈতিক দিক দিয়ে আমি স্বস্তিতে আছি। আমরা মোটামুটি আত্মবিশ্বাসী।”
আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য ৪২০ কোটি টাকা ব্যয়ে বডি ক্যামেরা কেনাকে অপচয় মনে করেন কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সেটা আপনারা পরে বুঝতে পারবেন।”
বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি শ্রীলংকা, পাকিস্তান কিংবা নেপালের চেয়ে খারাপ কি না—এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা জানান, “মূল্যস্ফীতি ১১-১৪ শতাংশ ছিল, এখন ৮ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। যদি ৪ শতাংশে নামাতে পারতাম, তাহলে আনন্দ হত।”
চীন থেকে ২.২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ২০টি যুদ্ধজাহাজ কেনা প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি উপদেষ্টা। ফাইটার জাহাজ কেনার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, “ওটা ওদের ব্যাপার। আমি এখন কিছু বলতে পারব না।”
১৩ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আইএমএফের পাইপলাইনে আরও কিছু অর্থ রয়েছে। এসব নিয়ে আলোচনা হবে। তবে এবার খোলামেলা আলোচনা হবে না।”
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা পাল্টা শুল্ক নিয়ে তিনি বলেন, “শুল্ক ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে।”





