বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে নির্বাচন যদি বিলম্বিত হয় তাতে ফ্যাসিবাদের সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে এবং “পতিত ফ্যাসিবাদ” সুযোগ পাবে, যা কেউ কামনা করতে পারে না। তিনি বলেন, নির্বাচন বানচাল হলে অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান হবে।
\r\nশনিবার (স্থানীয়) রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন সেমিনার হলে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সালাহউদ্দিন এসব কথা বলেন।
\r\nসালাহউদ্দিন বলেন, পিআর (প্রফেশনাল রিপ্রেজেন্টেটিভ) পদ্ধতিতে স্থায়ী সরকারব্যবস্থা গড়ে ওঠে না — দুই মাস, ছয় মাস, বা এক বছর পরপর প্রধানমন্ত্রী ও সরকার পরিবর্তিত হওয়া সাধারণ ঘটনা। এতে কোনো রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা যায় না এবং জনগণের কল্যাণমূলক কাজ রূপায়ণ সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, “একটু অস্থিতিশীল পরিবেশ দিয়ে বাংলাদেশকে যেতে দিতে চাই না। যেখানে সিংগেল মেজরিটি বা মেজরিটির ভিত্তিতে দল-জোট সরকার গঠন সম্ভব নয়, এমন একটি ব্যবস্থাকে আমরা আহ্বান জানাতে পারি না।”
\r\nতিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক জরিপে দেশের ৫৬ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতি সম্পর্কে অজানা — সে পরিপ্রেক্ষিতে ৭০ শতাংশ লোক পিআর পদ্ধতি চান—এ ধরনের পরিসংখ্যান বিভ্রান্তিকর এবং জনগণকে মিথ্যে তথ্য দিয়ে ভুল বোঝানো অনুচিত। যারা জাতীয় স্বার্থের খরিৎ করে কেবল স্বার্থসিদ্ধির জন্য পিআর চান, তাদের উদ্দেশ্য প্রশ্নযোগ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সালাহউদ্দিন প্রশ্ন তোলেন, পিআর পদ্ধতিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সুযোগ কোথায়? তারা কি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করতে পারবে না?
\r\nপিআর পদ্ধতি সমর্থকদের toward তিনি বলেন, “যারা পিআর চান, তারা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারেই তা উল্লেখ করুক; জনগণ যদি তাদের ইশতেহার অনুযায়ী ভোট দেয়, তখনই সেটা বাস্তবায়ন করলেই হবে।”
\r\nসংবিধান ও সংবিধান সংশোধনী সম্পর্কে তিনি বলেন, সংবিধান কোনো খেলাধুলা নয়। ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি চলে না — সংস্থাটিকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত করতে হবে। গণপরিষদের মাধ্যমে সংবিধান প্রণীত হলে সেটি চিরস্থায়ী হবে—এমন ধারণা উন্মোচন করে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, ’৭২ সালে প্রণীত সংবিধানও পরে সংশোধনের মধ্য দিয়ে বাস্তবতা বদলেছে; ফলে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তন সম্ভব।
\r\nবিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, তারা গণতান্ত্রিক প্রথার রক্ষা করে তর্ক-বিতর্ক ও বহুমতের সম্মান করে চলবে; একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যমতও গড়ে তুলবে। তিনি যোগ করেন, “যারা যে সমস্ত দাবিতে আন্দোলন করছে, তাদেরকে আমরা স্বাগত জানাই — এই অধিকার, এই চর্চা, এই রাজনৈতিক সংস্কৃতিই আমরা পালন করব। আমরা রক্ত দিয়েছি, জীবন দিয়েছি এই গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য।”
\r\nসভায় তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, “জাতীয় ঐক্যমত এসে যাতে জনগণ বিজয়ী হয়, এদেশের মানুষ বিজয়ী হয় এবং সকল রাজনৈতিক দল জনগণের কাছে পরাজিত হবে”—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।





