পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের দায়ের করা মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতের অভিযান শেষে জামায়াতের দুজন এবং বিএনপির তিনজনকে আটক করা হয়। রোববার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।


\r\n

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আবদুর নূর জানান, দুই পক্ষের মামলার তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, সংঘর্ষের সময় অস্ত্র হাতে গুলি ছোড়া যুবকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় তার পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তবে এখনো তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি; পুলিশ তাকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।


\r\n

পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী–আটঘরিয়া) আসনের বিএনপি প্রার্থী ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমানের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও জেলা আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতের মামলা অনুযায়ী প্রধান আসামি করা হয়েছে সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধাকে।


\r\n

ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক বাঁধন হাসান জামায়াতের প্রার্থীসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে ১৫০–২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেছেন। ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল ইসলামও কৃষক নেতা মক্কেল মৃধাসহ ৩৫ জনকে নামীয় আসামি এবং আরও ১৫০–২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেছেন।


\r\n

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে চরগড়গড়ি গ্রামে জামায়াতের প্রার্থী আবু তালেব মন্ডলের গণসংযোগের সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে গুলি ছোড়া, মোটরসাইকেল ভাঙচুরসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন। আহতদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


\r\n

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সংঘর্ষের আগে কয়েক দিন ধরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।


\r\n

ওসি আ স ম আবদুর নূর বলেন, “উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। আমরা আইন অনুযায়ী আসামিদের গ্রেপ্তার করছি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।”