পাবনায় এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারতীয় নাগরিক সুখ রঞ্জন চক্রবর্তী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুধু নাগরিকত্ব গোপন করাই নয়, তার বিরুদ্ধে শ্বশুরের নামে লিজ নেয়া সরকারি জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নেমেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সুখ রঞ্জন নিয়মিতভাবে ভারত যাতায়াত করেন। তার স্ত্রী ও বড় ছেলে ভারতে থাকেন এবং সেখানে জমি ও ফ্ল্যাট কেনার তথ্যও উঠে এসেছে। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনার দক্ষিণ ব্যারাকপুর শহরের বাসিন্দা এবং তার ভারতীয় জাতীয় পরিচয়পত্র ও আধার কার্ডও রয়েছে। আধার নম্বর—৪০৫০২২৩৪৩৩৫১।

বর্তমানে তিনি পাবনা শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত এবং একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। মাঝে মাঝে ১৫ দিন বা এক মাস ছুটি নিয়ে ভারতে চলে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে। পাবনায় তিনি তার বাকপ্রতিবন্ধী ছোট ছেলের সঙ্গে বসবাস করেন এবং প্রতিবন্ধী ভাতা গ্রহণ করেন।

এ ছাড়া, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে—তিনি তার শ্বশুর দীপক কুমার রায়ের নামে লিজ নেয়া সরকারি জমি নিজের নামে নিতে চাচ্ছেন এবং শ্যালকের পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন। শ্যালক সুমন কুমার রায় বলেন, \"আমার বাবা মারা যাওয়ার পর বোনকে একমাত্র উত্তরসূরি দেখিয়ে জমির দখল নিতে চাইছে। এখন আমার বাড়িতেই আমাকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।\"

অভিযোগ অস্বীকার করে সুখ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, “এসব মিথ্যা অভিযোগ। আমার স্ত্রী-সন্তান এখন ভারতে আছে, কিন্তু আমার সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই। তদন্ত হলে সত্য বের হয়ে আসবে। জমিজমা নিয়ে পারিবারিক বিরোধ থেকেই এসব ষড়যন্ত্র হচ্ছে।”

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি এবং কাগজপত্র হাতে এসেছে। ইতোমধ্যে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে এলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”