পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে শতদ্রু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (২৩ আগস্ট) পর্যন্ত প্রদেশের বিভিন্ন নদীতীরবর্তী এলাকা থেকে অন্তত ১৯ হাজার ৯৪৭ জন মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পাঞ্জাবের গন্ডা সিং ওয়ালা এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি সবচেয়ে সংকটজনক আকার ধারণ করেছে। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (পিডিএমএ) জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা নেই।
পিডিএমএর সহায়তায় রেসকিউ ১১২২-এর দল কাসুর, ওকারা, পাকপত্তন, বাহাওয়ালনগর ও ভেহারি জেলায় উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এসব এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র ফরুক আহমদ জানিয়েছেন, সিন্ধু, চন্দ্রভাগা, রাভি, শতদ্রু ও ঝিলম নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে জরুরি ভিত্তিতে মানুষদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, \"আমরা এখন পর্যন্ত ১৯ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছি।\"
প্রাদেশিক মন্ত্রী এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি খাজা সালমান রফিক এক জরুরি বৈঠক শেষে জানান, “শতদ্রু ও রাভি নদীর চরাঞ্চলের মানুষদের সরিয়ে নেওয়াই এখন আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। মানুষের সুরক্ষায় সব ধরনের সম্পদ ব্যবহার করা হচ্ছে।”
পাঞ্জাবের নদীগুলোর পরিস্থিতি বর্তমানে ভিন্ন ভিন্ন রূপ নিচ্ছে। তারবেলা ও কালাবাগে ইন্দুস নদীর পানি বাড়লেও চন্দ্রভাগা ও রাভি নদীর পানি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ডেরা গাজি খান অঞ্চলের পাহাড়ি ঢলও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে শতদ্রু নদী। জলালপুর পীরওয়ালা ও আশপাশের এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে জোর তৎপরতা চলছে। মুলতানের ডেপুটি কমিশনার ওয়াসিম হামিদ সিন্ধু জানান, \"সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জনগণকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।\"
এদিকে, পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদপ্তর নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে। তারা জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত মৌসুমি বৃষ্টির অষ্টম ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে, যা পাঞ্জাবের উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বর্ষণ ডেকে আনতে পারে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।





