যুক্তরাষ্ট্রের বামপন্থী রাজনীতির উদীয়মান নেতা জোহরান মামদানি বুধবার মধ্যরাতে একটি পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে শপথগ্রহণের মাধ্যমে নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখাচ্ছেন।

মামদানি সাধারণ পরিবেশে শপথ নেওয়াকে শ্রমজীবী মানুষের প্রতি তার অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্রেট নির্বাচনী প্রচারণায় জীবিকা ব্যয়ের বৃদ্ধি মোকাবিলা, ভাড়া স্থগিত, সর্বজনীন শিশুযত্ন সুবিধা এবং বিনামূল্যের গণপরিবহন চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে তার উচ্চাকাঙ্ক্ষী কর্মসূচি কতটা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে, তা এখনও প্রশ্নবিদ্ধ।

নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক হলেও রাজনৈতিক সংঘর্ষের সম্ভাবনা অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, মামদানি ‘উন্মাদ কমিউনিস্ট’, আর মামদানি তাকে ‘ফ্যাসিস্ট’ হিসেবে দেখেন।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক আয়োজন হবে বৃহস্পতিবার সিটি হলে, যেখানে বক্তব্য দেবেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও কংগ্রেসওমেন আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ। প্রায় চার হাজার আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত থাকবেন। নতুন দায়িত্বের সঙ্গে মামদানি কুইন্সের ভাড়া অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে ম্যানহাটানের মেয়র বাসভবনে স্থানান্তরিত হবেন।

উগান্ডায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই নেতা সাত বছর বয়সে নিউইয়র্কে আসেন। তিনি স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য এবং পরে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে অভিজ্ঞ উপদেষ্টা ও ব্যবসায়ী নেতাদের সহযোগিতা গ্রহণ করছেন। ফিলিস্তিনি অধিকারের সমর্থক হিসেবে তিনি ইহুদি সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্বের আশ্বাস দিচ্ছেন।