জেন জি আন্দোলনকারীদের আপত্তি উপেক্ষা করেই শপথ গ্রহণ করেছেন নেপালের নতুন তিন মন্ত্রী। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানী কাঠমান্ডুর শীতল নিবাসে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান।
নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন—অর্থমন্ত্রী রমেশ্বর খনাল, জ্বালানি, পানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী কুলমান ঘিসিং এবং স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী ওম প্রকাশ আর্যাল।
শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট রামসহায় প্রসাদ যাদব, জাতীয় পরিষদের চেয়ারম্যান নারায়ণ প্রসাদ দাহাল, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বাবুরাম ভট্টরায়সহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনীতিকরা।
মন্ত্রী হওয়ার আগে কুলমান ঘিসিং নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। ওম প্রকাশ আর্যাল ছিলেন কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন শাহর আইনি উপদেষ্টা। আর রমেশ্বর খনাল দেশটির সাবেক অর্থসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
জেন জি আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ
তবে এই নিয়োগ ঘিরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেন জি আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ—নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা পরামর্শ করা হয়নি।
রোববার রাতে বালুওয়াটারে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন জেন জি আন্দোলনের অন্যতম নেতা সুদান গুরুং। তিনি বলেন, \"আমাদের সঙ্গে কথা না বলে মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। আমরা আবার রাস্তায় নামলে কেউ থামাতে পারবে না। যাকে আমরা বসিয়েছি, তাকেই সরিয়ে দিতে পারি।\"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওম প্রকাশ আর্যাল নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার জন্য ভেতরে ভেতরে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন। বিক্ষোভে গুরুংয়ের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন গত সপ্তাহে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরাও।
চলমান উত্তেজনা ও সহিংসতা
গত ৮ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি, দমন-পীড়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে নেপালের তরুণ প্রজন্ম। নিরাপত্তা বাহিনী কড়া হাতে দমন শুরু করে—ব্যবহার করা হয় জলকামান, টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট ও গুলি। দেশের বিভিন্ন শহরে জারি করা হয় কারফিউ।
তবুও দমে না গিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যায় বিক্ষোভকারীরা। চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। আন্দোলনের সময় বিভিন্ন সরকারি ভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগ ঘটে। সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত ৭২ জন নিহত হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, ১২ সেপ্টেম্বর নেপালের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সাবেক বিচারপতি সুশীলা কার্কি। তাকে নিয়োগ দেওয়া হয় প্রেসিডেন্ট ও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা এবং আন্দোলনকারীদের দাবির ভিত্তিতে।
তবে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনে আন্দোলনকারীদের উপেক্ষা করা, আবারো দেশজুড়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।





