নেপালে সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভের পাশাপাশি আরেকটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা। সম্প্রতি সরকার ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স (সাবেক টুইটার), ইনস্টাগ্রাম ও লিংকডইনের মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশাধিকার বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়, যা ব্যাপক জনরোষের জন্ম দিয়েছে, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে।
নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসে গত বৃহস্পতিবার, পরদিন থেকেই ধীরে ধীরে এসব প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ সীমিত হয়ে পড়ে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব মাধ্যম নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন সম্পন্ন না করায় প্ল্যাটফর্মগুলোতে অ্যাক্সেস বন্ধ করা হয়েছে। সরকারের যুক্তি, গুজব, ঘৃণা ছড়ানো এবং সাইবার অপরাধ দমনে এ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল।
তবে নেপালের ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের সংগঠনের সভাপতি সুদীর পরাজুলি জানান, সরকার থেকে নির্দেশ পাওয়ার পর URL ব্লক করতে শুরু করেছে আইএসপিগুলো। তবে পুরোপুরি শাটডাউন কার্যকর করতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।
এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপালে কয়েক লাখ মানুষ এসব মাধ্যম ব্যবহার করেন, যা শুধু বিনোদন কিংবা যোগাযোগ নয়, অনেকের জন্য উপার্জনের পথও। এমনই একজন ২৫ বছর বয়সী জেনিশা জোশি, যিনি ফেসবুকের মাধ্যমে গয়না ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী বিক্রি করতেন। নিষেধাজ্ঞার কারণে তার ব্যবসা প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। তিনি বলেন, \"আমার আত্মীয়রা দেশের বাইরে থাকেন, ফেসবুকই ছিল আমাদের যোগাযোগের মাধ্যম। সরকার এটা বন্ধ করে ভুল করেছে।\"
২০২৩ সালে নেপাল সরকার একটি আইন পাস করে, যেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়। আদালতের নির্দেশনার পর তা বাস্তবায়নের পথে এগোয় সরকার।
বিরোধী দলীয় নেতা সুমনা শ্রীষ্টা এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, \"সরকার স্বাধীন মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।\" আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস’-এর আঞ্চলিক পরিচালক বেহ লিহ ইয়ি একে সংবাদমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য \"বিপজ্জনক নজির\" বলে আখ্যা দেন।
নিষেধাজ্ঞা এড়াতে অনেকে ভিপিএন ব্যবহার করলেও, সাইবার ব্যুরো তা নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছে। এর আগে ২০২3 সালে মানি লন্ডারিং ও অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে টেলিগ্রাম অ্যাপ ব্লক করা হয়েছিল, যদিও পরে টিকটক থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।
এখন পর্যন্ত ২৬টি প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিয়েছে নেপালি সরকার। তবে জেনারেশন-জেডের তরুণরা এই সিদ্ধান্তকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে, যা আন্দোলনকে আরও জোরদার করেছে।





