'জেন-জি' আন্দোলনের ঢেউয়ে অস্থির হয়ে উঠেছে পুরো নেপাল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির পদত্যাগের পরও থামছে না সহিংসতা। বিক্ষোভকারীদের হামলার লক্ষ্য এখন সরকারি স্থাপনা, রাজনৈতিক নেতাদের বাসভবন ও নিরাপত্তা বাহিনী।

সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে রাজধানী কাঠমান্ডুর কোটেশ্বর এলাকায়। দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম খबरহাব প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানিয়েছে, সেখানে পুলিশের বিভাগীয় কার্যালয়ে প্রথমে আগুন লাগায় বিক্ষোভকারীরা। এরপর কর্মকর্তাদের জোরপূর্বক বাইরে টেনে এনে রাস্তায় নামায়। তিনজন পুলিশ সদস্য আত্মসমর্পণ করে অস্ত্র ফেলে দিলেও রেহাই পাননি—তাদের পিটিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা।

নেপাল পুলিশ সদর দপ্তর এই বর্বরোচিত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, রাজধানীতে ক্রমাবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির এটি একটি গুরুতর উদাহরণ। এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি কতটা নাজুক হয়ে পড়েছে, তা স্পষ্ট।

এদিকে, কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে সরকারি ভবন, রাজনৈতিক কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। দুই দিনের আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ২১ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। এর সঙ্গে কোটেশ্বরে নিহত তিন পুলিশ সদস্যের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো সুনির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া না এলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।