রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রায় দুই দশক লন্ডনে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে মাত্র দেড় মাসের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। একসময় যার ওপর দুর্নীতির অভিযোগে কঠোর দমন-পীড়ন নেমে এসেছিল, সেই নরম স্বভাবের ৬০ বছর বয়সী নেতা এখন দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে।


লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে জয়ের পথে এগোচ্ছেন তারেক রহমান। বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি ২০০টির বেশি আসন পেয়েছে, যা দলটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

\r\n

২০০৮ সালে সেনাবাহিনী-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেফতার ও কারাবন্দি হওয়ার পর চিকিৎসার প্রয়োজন দেখিয়ে তিনি দেশ ছাড়েন। প্রায় ১৬ বছর পর গত ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফেরার দিন হাজারো নেতাকর্মী তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। দেশে ফেরার মাত্র পাঁচদিনের মধ্যে মারা যান তাঁর মা, বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া

\r\n

তারেক রহমানের বাবা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭–১৯৮১ সালে দেশের নেতৃত্ব দেন। পরিবার ও দলের রাজনৈতিক ঐতিহ্য বিএনপির পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

\r\n

একই সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানের তরুণ নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনে নির্ধারিত ৩০টি আসনের মধ্যে মাত্র ছয়টি আসন জিতেছে। জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের অংশগ্রহণও তাদের নির্বাচনী সাফল্য সীমিত রাখতে পারেছে।

\r\n

জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটেও প্রাথমিক ফলাফলে হ্যাঁ ভোট প্রায় ২০ লাখ এবং না ভোট ৮ লাখ ৫০ হাজারের বেশি। গণভোটে প্রস্তাবিত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও প্রধানমন্ত্রীদের দুই মেয়াদে ১০ বছরের সীমা।

\r\n

বিএনপি নির্বাচনে বিপুল জয়ের পরও কোনো বিজয় মিছিল বা শোভাযাত্রা না করার নির্দেশ দিয়েছে। দলের ঘোষণায় বলা হয়েছে, জুমার নামাজ শেষে দেশের কল্যাণে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।

\r\n

সামনে কোন পথে বাংলাদেশের রাজনীতি যাবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করছে তারেক রহমান–এর নেতৃত্বের ওপর। তিনি নিজেকে ‘রাজনৈতিক বংশধর’ হিসেবে নয়, বরং ‘গণতন্ত্র পুনর্গঠনের নেতা’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে পররাষ্ট্রনীতি পুনর্বিন্যাস, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দরিদ্র পরিবারে সহায়তা ও নতুন শিল্পে বিনিয়োগ।