ডিসেম্বরের প্রথম দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা এবং ফেব্রুয়ারি ১২-এর মধ্যে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হাতে। নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে পৌঁছাতে চলেছে কমিশন।


নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইসি উদ্বিগ্ন। আসন্ন নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন ধরনের নাশকতার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক করেছে কমিশন। একই ধরনের সতর্কতা প্রকাশ করেছে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাও।


সম্প্রতি ইসিতে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বৈঠকের কার্যবিবরণীতে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ওই বৈঠকে নাশকতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণসহ ২২টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রোববার এই কার্যবিবরণী সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধান, পুলিশের আইজিসহ সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে।


কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনের ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৮,৬৬৩টি ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়াও প্রবাসীদের পোস্টাল ভোটিং নিয়ে নাশকতার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনকালে অবৈধ অস্ত্রের প্রবেশের আশঙ্কা এবং সোশ্যাল মিডিয়া ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে গুজব ছড়ানোর ভয়ও আছে। এসব পরিস্থিতি পুরো নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।


ইসি সূত্র জানায়, সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কয়েক দফায় বৈঠক হবে। এর অংশ হিসেবে ২০ অক্টোবর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এমএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গতকাল ওই বৈঠকের কার্যবিবরণী সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং চলতি মাসে আরও একবার বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে।