সংবাদ লোড হচ্ছে...
সংবাদ লোড হচ্ছে...
একজন নারী নেতা হিসেবে বাংলাদেশকে বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তা এশিয়া উপমহাদেশে দীর্ঘদিন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এ কথা বলেন।
\r\nমেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ স্মরণসভায় মার্শা বার্নিকাট বলেন, বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন মানুষ খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করবে। বহু নির্যাতন ও সংকটের মধ্যেও তিনি কখনো অভিযোগ করেননি। ব্যক্তিগত আচরণে তিনি ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক ও অতিথিপরায়ণ। কঠিন পরিস্থিতিতেও তার হাস্যোজ্জ্বল উপস্থিতি সবাইকে মুগ্ধ করত।
\r\nতিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার বহুবার সাক্ষাৎ হয়েছে। রাজনৈতিক চাপ ও সংকটের মধ্যেও তিনি ছিলেন অমায়িক, হৃদয়বান এবং জনগণের কল্যাণে নিবেদিত একজন নেতা।
\r\nস্মরণসভায় বক্তব্য দেন ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি মার্ক শেফ, এপি’র সাবেক সম্পাদক ম্যারন বিলকাইন্ড, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যান মোজেনা, স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো স্টিভ রোজ, ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগের সাবেক প্রধান ইকবাল বাহার চৌধুরী, বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তজা এবং আমেরিকান ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের অধ্যাপক এহতেশামুল হক।
\r\nস্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে তার ভূমিকা ইতিহাসে অনন্য। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের মুখে পড়লেও তিনি সাহসিকতার সঙ্গে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
\r\nতিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংস অভিযানের সময় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অস্ত্র সরানোর উদ্যোগে বাধা দিয়ে খালেদা জিয়া জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিরোধের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেয়।
\r\nড্যান মোজেনা বলেন, খালেদা জিয়া অন্যকে সম্মান দিতেন বলেই তিনি নিজেও সম্মানিত ছিলেন। অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি মানুষের খোঁজখবর নিতেন। গণতন্ত্র ও বাংলাদেশের উন্নয়নের ইতিহাসে তার নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
\r\nসাংবাদিক ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর কঠিন বাস্তবতায় রাজনীতির নেতৃত্ব নিতে বাধ্য হন খালেদা জিয়া। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘ সময় রাজনীতির কেন্দ্রে অবস্থান করেন।
\r\nএহতেশামুল হক বলেন, ব্যক্তিগত জীবনের নানা বেদনাকে পেছনে ফেলে তিনি গণতন্ত্রের লড়াইয়ে অবিচল ছিলেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নিপীড়নের মধ্যেও তাকে দমিয়ে রাখা যায়নি।
\r\nস্মরণসভা শুরুর আগে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও রাজনৈতিক সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত অতিথিদের আবেগাপ্লুত করে তোলে।
\r\nওয়াশিংটনে আয়োজিত এই স্মরণসভা আন্তর্জাতিক পরিসরে গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।